কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা “ছওয়াব” এর নগদ অর্থ বিতরণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে সংস্থাটির বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন উঠছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অদ্য ০৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ক্যাম্প-১৯ এর ডি/১ ব্লকে একটি বিতর্কিত নগদ অর্থ বিতরণ কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, মুসলিম চ্যারিটির অর্থায়নে ছওয়াব পরিচালিত একটি লার্নিং সেন্টারের প্রাঙ্গণে গোপনে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে আসা কতিপয় উগ্র রোহিঙ্গাদের একত্রিত করা হয়। সেখানে নগদ অর্থ বিতরণের আয়োজন করা হচ্ছিল বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের।
তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের সিআইসি জনাব আজগর আলীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে উক্ত কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। ফলে সম্ভাব্য বিতর্কিত ওই নগদ বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেকোনো ধরনের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে Refugee Relief and Repatriation Commissioner (RRRC) এবং ক্যাম্প প্রশাসনের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক। কিন্তু উক্ত ঘটনায় এ ধরনের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, অনুমোদনবিহীন কার্যক্রম পরিচালনা উক্ত এনজিওর ক্ষেত্রে নতুন নয়। অতীতে পাহাড় কাটা, কোরবানির মাংস বিতরণে অনিয়ম এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার তহবিল ব্যবহারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগের অনেকগুলোরই আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা নিষ্পত্তি হয়নি বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্যাম্প এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত নগদ অর্থ বিতরণ একটি স্পর্শকাতর বিষয়, যা সঠিকভাবে তদারকি না হলে সন্ত্রাসী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এ ধরনের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত এনজিও “ছওয়াব” এর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে, সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টরা ঘটনাটি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করছেন, যথাযথ নজরদারি না থাকলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আরও বড় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।