উখিয়ার অন্যতম ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র কোর্টবাজার বর্তমানে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার চরম সীমায় পৌঁছেছে। সড়কের ড্রেন ঘেঁষে, ড্রেনের ওপর, এমনকি ড্রেন অতিক্রম করে মূল সড়কের ৬ থেকে ৮ ফুট জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকান। সড়কের জায়গা দখল করে বসানো এসব দোকানের পেছনে চলছে ভয়াবহ চাঁদাবাজি ও শোষণের এক নীরব মহোৎসব বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন এডভোকেট জসিম আজাদ।
তিনি লিখেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব জায়গায় দোকান বসাতে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের তথাকথিত ‘জমিদার’ দাবিদার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে গুনতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা সেলামি এবং চড়া মাসিক ভাড়া। এখানেই শেষ নয়, প্রতিদিন বাজার ইজারাদারের নামে আদায় করা হচ্ছে ‘হাসিল’।
একদিকে পুঁজি হারানোর ভয়, অন্যদিকে বহুমুখী এই শোষণে পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। আর লাভবান হচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী দখলদার গোষ্ঠী।
রাস্তা দখল করে দোকান বসানোর কারণে কোর্টবাজার স্টেশন এলাকায় পথচারী ও যানবাহনের চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সারাক্ষণ যানজট লেগে থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। সামান্য পথ অতিক্রম করতেও দীর্ঘ সময় নষ্ট করতে হচ্ছে যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
তিনি আরও লিখেন, একটি বাজার সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ইউনিয়ন ও উপজেলা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি, দোকান মালিক সমিতি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কোর্টবাজারের এই নৈরাজ্য সবার চোখের সামনে ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে। প্রশাসনের এই উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কোর্টবাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে, সড়কের জায়গা দখলমুক্ত করতে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে অবিলম্বে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে অবৈধ ভাড়া-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।