শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংককে ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে নামিয়ে সর্বনিম্ন ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
টানা দুই বছর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকটির বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই কারণে বেসরকারি খাতের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংককেও (এসবিএসি) ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। ‘জেড’ ক্যাটাগরি শেয়ারবাজারের কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ জানিয়েছে, জেড ক্যাটাগরিতে নামানোর কারণে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কিনতে কোনো ঋণ পাওয়া যাবে না, যা আগামী রবিবার থেকে কার্যকর করা হবে। অপর দুই ব্যাংকের শেয়ার কিনতেও ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে না।
বিএসইসির শর্ত অনুযায়ী, টানা দুই বছর লভ্যাংশ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংক তিনটিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংক এতদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ লভ্যাংশ দিয়ে আসছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর থেকে ব্যাংকটিতে বড় ধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়। এতে করে জন্মলগ্ন থেকে সবচেয়ে ভালো ব্যাংকের তালিকায় থাকা ইসলামী ব্যাংক পরিচালন সমস্যার কারণে গত দুই বছরে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এতে করে ব্যাংকটিতে একধরনের ধস নেমেছে। প্রতিটি সূচকেই নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যাংকটি গত দুই বছর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতেও ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে ডিএসই ও সিএসইর নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্যাটাগরি পরিবর্তনের ফলে এখন থেকে এই তিন ব্যাংকের শেয়ার কেনার বিপরীতে কোনো ধরনের মার্জিন ঋণ সুবিধা পাবেন না বিনিয়োগকারীরা। ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই এ অবনমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যাংক তিনটির শেয়ারদরে বড় ধরনের পতন দেখা দেয়। বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপে লেনদেনের শুরুর সেশনেই শেয়ারগুলোর দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। শেয়ারবাজারে আজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দরপতন হয়েছে। দিনের শুরুতে শেয়ারপ্রতি ৩৪ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হলেও দুপুর ১২টা নাগাদ তা ৩৩ টাকা ১০ পয়সায় নেমে আসে। দিন শেষে সর্বশেষ ইসলামী ব্যাংক ৩৩ দশমিক ৩০ টাকায়, এসবিএসি ব্যাংক ৬ টাকায় এবং স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক ৪ দশমিক ৭০ টাকায় লেনদেন হয়েছে।