কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং বাজার এলাকায় এক পরিচয়হীন মানসিক রোগীর মৃত্যুর পর মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে নানা মানবিক কাজে সম্পৃক্ত থাকা এবং মাদকবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় ইতোমধ্যে তিনি সাধারণ মানুষের ব্যাপক ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেছেন।
জানা যায়, গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি রুবেলের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হন ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন। তিনি জানান, কুতুপালং বাজারের লম্বাশিয়া রোডের মাথায় একটি দোকানে এক মানসিক রোগীর নিথর দেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করে।
পুলিশের পরামর্শে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি প্রচার করা হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর মানবিক বিবেচনায় ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন নিজ উদ্যোগে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী মরদেহের গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফনের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
তার সার্বিক তদারকিতে স্থানীয় সমাজসেবক আবছারসহ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী যুবক এগিয়ে আসেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্থানীয় কবরস্থানে কবর খনন করা হয় এবং অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে মরদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
কুতুপালং বাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম জানাজা নামাজে ইমামতি করেন। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী তারেক সওদাগর, রুবেল, আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। জানাজা শেষে মরদেহটি স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় আবছার, শাহাবউদ্দিন, জসিম, করিমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেন, একজন মুসলমান হিসেবে পরিচয় থাকুক বা না থাকুক, তার জানাজা ও দাফনের দায়িত্ব নেওয়া আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় কর্তব্য। মানবতার কাজে অংশ নিতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
স্থানীয়রা জানান, ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দরিদ্রদের সহায়তা, দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণসহ নানা মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। পাশাপাশি তিনি এলাকায় মাদক নির্মূলে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। এসব কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।
এদিকে, পবিত্র রমজান মাসে এমন মানবিক ও মহৎ উদ্যোগ এলাকাবাসীর হৃদয় ছুঁয়েছে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।