এক সময় চা দোকানের সাধারণ কর্মচারী হিসেবে পরিচিত চিয়ক ফরিদ বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ভূমিহীন ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তান হয়েও অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বালুখালীসহ কক্সবাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরিদ কখনো নিজেকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেন, আবার পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেন। প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় দাপট দেখানো, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সূত্র মতে, মাদক ও অবৈধ লেনদেন–সংক্রান্ত একাধিক ঘটনায় ফরিদের নাম আলোচনায় এলেও অনেক ক্ষেত্রেই মামলার নথিতে তার নাম থাকে না। কোনো কোনো অভিযানে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা গ্রেপ্তার হলেও ফরিদ আড়ালে থেকে যান—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, চিয়ক ফরিদের সম্পদের বিস্তার অত্যন্ত বিস্ময়কর। নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় রয়েছে প্রায় ১৩০ খানি সম্পদ। টিভি কেন্দ্রের পাশে রয়েছে আনুমানিক ৪ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ। কাস্টমস এলাকায় রয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পদ। কক্সবাজার শহরে রয়েছে একাধিক হোটেল ও কটেজ। হালি শহরে রয়েছে ৫টি বাড়ি। ব্যক্তিগত চলাচলের জন্য রয়েছে এসি বাস। পালংখালীর গয়াল মারা সহ একাধিক এলাকায় রয়েছে তার সম্পদের পাহাড়। দেশের বাইরে নেপালে রয়েছে হোটেল ব্যবসা এবং সৌদি আরবে রয়েছে বোরকার দোকান। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বিদেশের ব্যবসার দেখাশোনার দায়িত্ব একটি রোহিঙ্গা ব্যক্তির কাছে রয়েছে, যিনি মাদক ব্যবসায় যুক্ত বলে শোনা যায়। নিজ জন্মভূমি বালুখালীর জুমের ছড়া এলাকায় রয়েছে তিনটি বহুতল ভবন, যেখানে প্রতিটি ভবন নির্মাণে কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, চিয়ক ফরিদ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য দুটি আর ওয়ান ফাইভ মোটরসাইকেল, একটি ভার্ষণ ৪ মটর সাইকেল, একটি ল্যান্ড ক্রুজার এবং একটি প্রাইভেট কারসহ একাধিক কোটি টাকা মূল্যের প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করেন। স্থানীয়রা বলেন, এসব গাড়ি প্রায়শই মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হয় বলে শোনা যায়।
স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, চিয়ক ফরিদের পিতা সৈয়দ মোস্তফা ছিলেন একজন দিনমজুর ও ভূমিহীন মানুষ। তার পূর্বপুরুষের কোনো সম্পদ ছিল না। উত্থানের সূত্র হিসেবে স্থানীয়রা মাদক ব্যবসাকে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ফরিদের পরিবারের সমস্ত অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হোক, যাতে সম্পদের উৎস ও বৈধতা নির্ধারণ করা যায়।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “এক সময় ফরিদ চায়ের দোকানে কাজ করত। এখন সে কোটি কোটি টাকার মালিক—এই টাকার উৎস কোথায়, সেটাই বড় প্রশ্ন।”
একজন প্রবীণ বাসিন্দার ভাষ্য, “রাজনৈতিক ছত্রছায়া আর প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এমন লোকেরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে।”
এ বিষয়ে চিয়ক ফরিদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের মতে, যদি এসব সম্পদ বৈধ ও স্বচ্ছ উপায়ে অর্জিত হয়ে থাকে, তবে তার পূর্ণাঙ্গ সম্পদ বিবরণী ও আয়ের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও সম্পদের উৎস যাচাই জরুরি।
এলাকার সাধারণ মানুষ দাবি করেছেন, চিয়ক ফরিদের সম্পদের সঠিক হিসাব দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দিয়ে তলব করা হোক, যাতে সম্পদের উৎস ও বৈধতা নির্ধারণ করা যায়।