কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমান সীমান্ত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা পাচারের অন্যতম হটস্পট হিসেবে পরিচিত। সরকার পরিবর্তন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও এই সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার থামেনি—বরং নীরবে আরও সুসংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পালংখালী আঞ্জুমান সীমান্তের শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রিজভী নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষায়, তিনি ‘ইয়াবা গডফাদার’ হিসেবেই পরিচিত।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে রিজভী প্রকাশ্যেই ইয়াবা কারবার চালিয়ে যেতেন। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরও সীমান্ত এলাকায় তার দখল ও নিয়ন্ত্রণ বিন্দুমাত্র কমেনি।
বরং স্থানীয়দের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পরও কীভাবে তিনি একইভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করে ইয়াবা পাচার চালিয়ে যাচ্ছেন—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়েও।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পালংখালী আঞ্জুমান সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে চান না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন— “এই সীমান্তে কারবার করতে হলে রিজভীর অনুমতি লাগে। তার লোকজন চারদিকে। কেউ বাধা দিতে সাহস পায় না।”
রিজভীর সঙ্গে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরকান আর্মির যোগাযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এই যোগাযোগের কারণেই সীমান্তের ওপার থেকে ইয়াবা নির্বিঘ্নে পাচার হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা টিকে আছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন যোগাযোগ থাকলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য অভিযোগ থাকলেও রিজভীর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—
“এত বড় অভিযোগের পরও যদি কেউ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকে, তাহলে প্রশ্ন তো উঠবেই—সে কীভাবে এত শক্তিশালী?”
পালংখালীসহ আশপাশের এলাকার সচেতন নাগরিকরা জোর দাবি জানিয়েছেন—গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত
সীমান্ত এলাকার ইয়াবা নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা রিজভীসহ সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত রিজভীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।