গ্রামের প্রান্তিক এলাকায় প্রতিবন্ধী শিশুদের জীবন এখনও নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। শিক্ষার সুযোগ সীমিত, বিশেষ সহায়ক পরিবেশ ও সচেতন শিক্ষকের অভাবে তাঁরা মূলধারার শিক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিবন্ধি শিশু বিকাশকেন্দ্র ও পুনর্বাসন সুবিধাও কম থাকায় শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবার ও সমাজের বৈষম্য, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং অনুপযুক্ত অবকাঠামো তাদের ন্যূনতম অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। আইন ও নীতিমালা থাকলেও সেগুলো কার্যকরভাবে গ্রামে পৌঁছায় না, ফলে তাঁরা সমাজের মূলধারার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হতে পারছে না।
জাতীয় জরিপে দেখা গেছে ১.৭% শিশু (৫‑১৭ বছর) কমপক্ষে এক ধরনের প্রতিবন্ধীতায় ভুগছে, আর প্রায় ৩.৬% শিশু বিভিন্ন কার্যক্ষমতাগত অসুবিধা (দেখা, শোনা, হাটা‑চলা, কথা বলার ইত্যাদি) অনুভব করছে।
এই প্রান্তিক অসুবিধা ও বৈষম্যগুলো দূর করতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিশেষ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করলে সব শিশুই সমান সুযোগ পাবে। স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন সেবা গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে সচেতন করে তাদের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবহন সুবিধা এবং প্রবেশযোগ্য সেবা কেন্দ্র তৈরি শিশুদের স্বনির্ভরতায় সহায়ক হবে। পাশাপাশি আইন ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন ও স্থানীয় পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করলে প্রতিবন্ধী শিশুদের সর্বক্ষেত্রে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক সুযোগ অর্জন সম্ভব হবে।
লেখক: মাহাবুব কাউসার
উন্নয়নকর্মী