দক্ষিণ কক্সবাজারের জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের গতবারের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে মাত্র তিন বছরে কুতুপালং বাজারকে ধ্বংস করেছেন জানে আলম জানু।
সূত্র বলছে, ২০২২ সালে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বাজারে বিভিন্ন চোরা কারবারিদের সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। তৈরি করেন স্বর্ণ কারবারি, ইয়াবা কারবারি ও মিয়ানমারে পণ্য পাচারকারী সিন্ডিকেট। এছাড়াও বিচার–সালিশের কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, কুতুপালং বাজারে রোহিঙ্গা যুবককে অপহরণের কায়দায় আটক রেখে ৫ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি জানে আলমের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা নাগরিক সৈয়দ হোসেন জানান, চলতি বছরের গত ৫ই এপ্রিল রাতে এক নারীর ফাঁদে ফেলে তাকে কুতুপালং দোকান মালিক সমিতির অফিসে ডেকে নেয়া হয়। এর আগে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ওই নারী আমেরিকায় যাওয়ার ভিসার কথা বলে দেখা করার আমন্ত্রণ জানায়। বাজারে পৌঁছানোর পরপরই ৪-৫ জন লোক তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অফিসে আটক করে।
সৈয়দ হোসেনের দাবি, সেখানে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং ওই নারীর মাধ্যমে মিথ্যা অভিযোগ তুলে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। প্রাণনাশের হুমকি ও নির্যাতনের মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ পরিশোধ করেন তিনি। ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির কারণে এতদিন তিনি নীরব ছিলেন বলেও জানান সৈয়দ হোসেন। তার ভাষায়, ওরা একটি ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট পরিচালনা করে। মুখ খুললে আমাকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কুতুপালং বাজারে সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে—নকল স্বর্ণ বন্ধক রেখে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে বাজার সমিতির সভাপতি জানে আলম জানু সহ আরও কয়েকজন জড়িত। ভিডিওতে এমনকি ৫০ হাজার টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এবিষয়ে অভিযুক্ত জানে আলম জানুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি৷
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ জিয়াউল হক জানান, প্রমাণ পেলেই কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না৷ এবিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷