• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম:
কুতুপালং খালের প্রাণ ফেরানোর উদ্যোগ: বর্জ্য অপসারণের পর এবার উচ্ছেদের পালা প্রাক্তনের বিয়ের দাওয়াতে যাওয়া উচিত? উখিয়ার বালুখালীতে বাবুলের নেতৃত্বে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই  রামুতে সার পাচারের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য! তদন্ত থমকে ৫৬ দিন, কৃষকের চরম দুর্ভোগ উখিয়ার বালুখালী মরাগাছ তলায় ইজারার নামে চাঁদাবাজি, জড়িত বিএনপি-যুবদলের সিন্ডিকেট! বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তারের শঙ্কায় মেসি কুতুপালং বাজারের ময়লায় অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী ঘুমধুম খাল; বিপর্যয়ের মুখে দুই উপজেলার জনস্বাস্থ্য মানবপাচার চক্র নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি এনসিপির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০ নিয়ম ভেঙ্গে নগদ টাকা বিতরণ: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিতর্কিত এনজিও “ছওয়াব” এর কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তা শঙ্কা

প্রাক্তনের বিয়ের দাওয়াতে যাওয়া উচিত?

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৩ বার
সময় : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

বিয়ের কার্ড হাতে নিয়ে অনেকেই হঠাৎ থমকে যান- কারণ সেটি কোনো পুরনো বন্ধু বা কাছের আত্মীয়ের নয়, প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার। প্রশ্নটা তখন একেবারেই ব্যক্তিগত, কিন্তু একইসঙ্গে অদ্ভুতভাবে সার্বজনীন: প্রাক্তনের বিয়েতে যাওয়া কি উচিত?
বাইরে থেকে প্রশ্নটি যতটা সহজ মনে হয়, ভেতরে ততটাই জটিল। এখানে আবেগ আর বাস্তবতার সূক্ষ্ম টানাপোড়েন কাজ করে, আর সেই ভারসাম্য খুঁজে পাওয়াই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রাক্তনের বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার চিন্তায় প্রথমেই বিবেচনায় আসে আপনার মানসিক অবস্থান। এ ব্যাপারে মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রাক্তনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উপস্থিত হওয়া মানে নিজেকে আবার সেই পুরনো স্মৃতির মুখোমুখি দাঁড় করানো। যদি ভেতরে এখনও কষ্ট, আক্ষেপ বা অমীমাংসিত অনুভূতি থেকে যায়, তাহলে সেই পরিবেশ আপনার জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে নিজেকে এমন পরিস্থিতিতে না ফেলাই মানসিক সুস্থতার জন্য উত্তম।
আবার এখানে সম্পর্কের সমাপ্তির ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। যদি বিচ্ছেদটি হয়ে থাকে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই সেই সম্পর্ক পরবর্তীতে একটি নিরপেক্ষ অবস্থানে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে বিয়েতে উপস্থিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
মার্কিন রিলেশনশিপ কোচ স্যান্ড্রা মিশেল এর মতে, যদি সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে শেষ হয়, আপনারা যদি সত্যিকারের “প্লেটোনিক বন্ধু” হিসেবে সম্পর্ক চলমান রাখেন বা একই বন্ধুবলয়ের সদস্য হন, সে ক্ষেত্রে প্রাক্তনের বিয়েতে ক্ষণিকের উপস্থিতি বা শুভেচ্ছা জানানো মন্দ নয়। তবে সম্মানজনক, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে। যাতে পুরনো কোনো আবেগ জেগে ওঠার সম্ভাবনা না থাকে।
তবে যদি সম্পর্কের ইতি ঘটে থাকে তিক্ততা, অবিশ্বাস বা মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে, তাহলে সেখানে যাওয়া মানে পুরনো ক্ষতকে নতুন করে উসকে দেয়া। তাই এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যেখানে নিজের ভেতরের শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেখানে না যাওয়াটা কোনো অশোভনতা নয়।
তবে আপনি যদি প্রাক্তনের বিয়েতে যান তবে কিছু শিষ্টাচার মেনে চলা জরুরি। কারণ এটি কোনো পুরনো সম্পর্কের পুনরাবৃত্তির জায়গা নয়, বরং অন্য একজনের নতুন জীবনের সূচনা। তাই সংযত আচরণ, সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি এবং আন্তরিক শুভেচ্ছাই হওয়া উচিত আপনার অবস্থানের ভিত্তি। এখানে অতীত নিয়ে আলোচনা বা আবেগ প্রবণতা অনুচিত এবং অপ্রাসঙ্গিক।
এদিকে প্রাক্তনের বিয়ের দাওয়াত প্রসঙ্গে জয় (ছদ্ম) নামের এক যুবক বলেন, ‘আমার মতে প্রাক্তন যদি বিয়ের দাওয়াত দেয় তাহলে বিয়েতে উপস্থিত থাকা উচিত। আমার প্রাক্তন তার বিয়ের দাওয়াত দিয়েছিল। আমি গিয়েছিলাম তার বিয়েটা নিজের চোখে দেখার জন্য। বিয়েতে গিয়ে পুরনো স্মৃতি মনে পড়েছে। কিছুটা খারাপও লেগেছিল, এটি খুবই স্বাভাবিক। নিজের আবেগকে আগে থেকেই স্বীকার করে নিয়েছিলাম। সে সময় আচরণে বা কথাবার্তায় অতীতের কোনো তিক্ততা বা অতিরিক্ত আবেগ প্রকাশ করিনি আমি বরং স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাক্তনের বিয়েতে আমার পরিচিত অনেকেই ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেছিলাম এবং অনুষ্ঠানটি উপভোগ করার চেষ্টা করেছিলাম। শেষ দিকে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছিল, তাই বেশিক্ষণ থাকিনি। সুন্দরভাবে বিদায় নিয়ে চলে এসেছিলাম। এর থেকে তার সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা আরও ভালো হয়েছে। এখন আমরা খুবই ভালো বন্ধু। মাঝেমাঝে তার স্বামীকে নিয়ে আসে আড্ডা দিতে, একসঙ্গে আড্ডা দেই। তার বাসায় মাঝে মাঝে দাওয়াত খেতেও যাই।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর