অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্ত দিয়ে বয়ে চলা এক সময়ের প্রমত্তা ও ঐতিহ্যবাহী ঘুমধুম খাল রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে নেমেছে। উখিয়া নিউজ টিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর ১৯ এপ্রিল (রোববার) উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমার তত্ত্বাবধানে এবং রাজাপালং ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিনের সহযোগিতায় খালের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুতুপালং বাজারের স্তূপীকৃত বর্জ্যে খালের যে অংশটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছিল, তা এস্কেভেটর দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে বাজারের পচনশীল ময়লা ও প্লাস্টিক বর্জ্য খালের কচুবনিয়া পয়েন্টে ফেলে পানি প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর সাথে পার্শ্ববর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দূষিত পানির সংযোগ খালটিকে বিষিয়ে তুলেছিল, যার ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর সৃষ্টি হয়েছিল মারাত্মক হুমকি।
ঘুমধুম খালের এই করুণ দশায় স্থানীয় কৃষি ও জনজীবনে নেমে এসেছিল চরম বিপর্যয়। বর্জ্যের দুর্গন্ধে পথচারীদের নাভিশ্বাস ওঠার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে বিষাক্ত পানি লোকালয় ও ফসলি জমিতে ঢুকে শত শত একর আবাদি জমি চাষের অনুপযোগী করে তুলছিল। এক সময়ের আশীর্বাদ এই খালটি এখন দুই উপজেলার মানুষের কাছে যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সংকট নিরসনে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে এস্কেভেটর দিয়ে বর্জ্য অপসারণ শুরু করেছি। উপজেলার প্রতিটি বাজারে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে একটি আধুনিক ‘ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট’ স্থাপনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি প্রদান করে বলেন, “বর্জ্য অপসারণের পর শীঘ্রই খালের জায়গা উদ্ধার ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের পানি প্রবাহ সচল রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়িবাসী। তারা আশা করছেন, দীর্ঘ এক যুগের এই সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে ঘুমধুম খালটি পুনরায় তার প্রাণ ফিরে পাবে এবং এলাকাবাসী ভয়াবহ দূষণ ও কৃত্রিম বন্যার কবল থেকে মুক্তি পাবে।