দিনদুপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও শিশুদের বসতবাড়িতে ঢুকে পাহারাদারকে পিটিয়ে জখম, ঘর ভাঙচুর ও লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার লুট—উখিয়ার কোটবাজার উত্তর স্টেশনে এমন ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে, উখিয়া থানাধীন ২নং রত্নাপালং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কোটবাজার উত্তর স্টেশনে। ভুক্তভোগী রোখসেনা আকতার (৩৭) উখিয়া থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানান, তার স্বামী সৌদি আরবে প্রবাসে থাকায় তিনি চার সন্তান নিয়ে কোটবাজারে স্বামীর মালিকানাধীন মার্কেট ও বসতবাড়িতে বসবাস করেন।
অভিযোগে বলা হয়, পাশের শাহ মজিদিয়া স্যানিটারির মালিক মোহাম্মদ মামুনের টাইলস গোডামে একটি কভারভ্যান ঢোকানোর সময় ভুক্তভোগীর মার্কেটের বিদ্যুৎ মিটার ভেঙে যায়। বিষয়টি নিয়ে পাহারাদার মোহাম্মদ মিজান আপত্তি জানালে মামুন ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর শুরু করে।
একপর্যায়ে মামুন ও রাশেলসহ ১৩–১৪ জন সন্ত্রাসী দা, লোহার রড, লাঠি ও হাতুড়ি নিয়ে মিজানকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাড়া করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়লে হামলাকারীরা সেখানে অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীরা শয়নকক্ষের স্টিল আলমারির ড্রয়ার ভেঙে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার—যার বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে। পাশাপাশি দুটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়।
এ সময় পাহারাদার বাধা দিলে মামুন তার গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা মামলা করলে খুন করার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ও তার ভাই ঘটনাস্থলে এলে হামলাকারীরা আবারও তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। ৯৯৯-এ ফোন দিলে উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গুরুতর আহত পাহারাদার মোহাম্মদ মিজানকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় উখিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।