• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম:
উখিয়ায় বহুতল ভবন উচ্ছেদে বন বিভাগের ‘দায়সারা’ মামলা কুতুপালং খালের প্রাণ ফেরানোর উদ্যোগ: বর্জ্য অপসারণের পর এবার উচ্ছেদের পালা প্রাক্তনের বিয়ের দাওয়াতে যাওয়া উচিত? উখিয়ার বালুখালীতে বাবুলের নেতৃত্বে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই  রামুতে সার পাচারের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য! তদন্ত থমকে ৫৬ দিন, কৃষকের চরম দুর্ভোগ উখিয়ার বালুখালী মরাগাছ তলায় ইজারার নামে চাঁদাবাজি, জড়িত বিএনপি-যুবদলের সিন্ডিকেট! বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তারের শঙ্কায় মেসি কুতুপালং বাজারের ময়লায় অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী ঘুমধুম খাল; বিপর্যয়ের মুখে দুই উপজেলার জনস্বাস্থ্য মানবপাচার চক্র নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি এনসিপির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

উখিয়ায় আপন দুইভাইয়ের পাহাড় কাটা সাম্রাজ্য, একই জায়গায় আবারো এক শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৪৯ বার
সময় : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

উখিয়ায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সময়  পাহাড় ধসে নুরুল আমিন (৩০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ির কাসেম মার্কেট এলাকার সমিতি পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি ভোরবেলা
একই জায়গায় পাহাড় কাটার সময় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত জালিয়া পালং ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পাইন্যাশিয়া এলাকার মোসলেম উদ্দিনের উপর পাহাড় ধ্বসে নির্মম মৃত্যু হয়।এরপরেও থামেনি পাহাড় কাটা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, শুক্রবার ভোররাতে পাহাড়ের মাটি কাটার সময় অন্ধকারে পাহাড়ের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়লে নুরুল আমিন সম্পূর্ণভাবে মাটিচাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত নুরুল আমিন উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকার মীর আহমদের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, সোনাইছড়ির আবুল কাসেমের
(দোবাই কাসেম) ছেলে হেলাল উদ্দিন (৫২) ও সরওয়ার (৪৭) আপন এই দুই ভাই মিলে ওই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে মাটি পাচার করে আসছে, দুই ভাইয়ের মালিকানাধীন তিনটি ড্রাম ট্রাক নিয়ে প্রতি রাতেই পাহাড়ের মাটি কেটে মেরিনড্রাইভে পাচার করে।আজকেও একই জায়গা থেকে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাক করে মেরিনড্রাইভের দিকে পাচারের সময় এ ঘটনা ঘটে।

ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) দুর্জয় সরকার বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ইনানী রেঞ্জের অধীনে বিনবিভাগের ওই বিটের দায়িত্বে থাকা বিট কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, শুক্রবার ভোররাত তিনটার সময়ও অভিযুক্ত হেলাল এবং সরোয়ারের ড্রাম ট্রাক (ডাম্পার) মাটি কাটার সময় ধাওয়া করলে গাড়ি দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়, পরে সাড়ে তিনটা নাগাদ তাঁরা ডিউটি শেষ করে চলে আসলে আবারো তাঁরা মাটি কাটা শুরু করে, ভোররাত ৪ টা ৩০ মিনিটের পর মাটিচাপা পড়ে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

এদিকে একই জায়গায় ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারী পাহাড়ের মাটিচাপা পড়ে মুসলিম উদ্দিন নামে এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায়ও হেলাল উদ্দিন জড়িত ছিলো, সেসময়ও বন আইনে তাঁর বিরোদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়, হেলাল উদ্দিন এবং তাঁর ভাই সরোয়ারের নামে বন আইনে ৫ টি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ১টিসহ মোট ৬ টি মামলা আছে, এরপরেও পাহাড়ের মাটি কাটা থামেনি তাঁদের।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর বিট কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান হেলালকে ১ নং ও তার ভাই সরওয়ারকে ২নং আসামী করে ৪ জনের বিরোদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করেন।

তাছাড়া এ ঘটনার কয়েকদিন আগে বিটকর্মকর্তা রোকনুজ্জামান গিয়ে পাহাড়ের ওই জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফিরোজ-আল-আমিন জানান, ভোররাতে আমাদের কর্মকর্তারা ডিউটি শেষ করে অফিসে ফেরার পরই পাহাড় কাটার কাজ শুরু করা হয়। এ সময় পাহাড়ধসে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।টনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত হেলালের বিরুদ্ধে এর আগেও বন আইনে পাঁচটি মামলা করা আছে ৷পরিবেশের আছে একটি, এই ঘটনায়ও জড়িতদের বিরোদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে একই জায়গায় পরপর দুটি মৃত্যু এবং অব্যাহত পাহাড় কাটার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর