• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম:
রামুতে সার পাচারের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য! তদন্ত থমকে ৫৬ দিন, কৃষকের চরম দুর্ভোগ উখিয়ার বালুখালী মরাগাছ তলায় ইজারার নামে চাঁদাবাজি, জড়িত বিএনপি-যুবদলের সিন্ডিকেট! বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তারের শঙ্কায় মেসি কুতুপালং বাজারের ময়লায় অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী ঘুমধুম খাল; বিপর্যয়ের মুখে দুই উপজেলার জনস্বাস্থ্য মানবপাচার চক্র নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি এনসিপির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০ নিয়ম ভেঙ্গে নগদ টাকা বিতরণ: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিতর্কিত এনজিও “ছওয়াব” এর কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তা শঙ্কা বেলায়েত চক্রে ভোগছে নিরহ পর্যটন উদ্যোক্তারা সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন সাখাওয়াত

মানবপাচার চক্র নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭৬ বার
সময় : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় মানবপাচার চক্রের তৎপরতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সংবাদকর্মীকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারে জনপ্রিয় দৈনিক ‘আজকের কক্সবাজার বার্তা’ পত্রিকার প্রতিবেদক নুরুল আলম সাগর (এন.এ সাগর) গত ১০ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে মোবাইল কলের মাধ্যমে হুমকির শিকার হন। অভিযোগে বলা হয়, দক্ষিণ গোয়ালিয়াপালং এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আজিম (২২) তার মুঠোফোনে কল করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পূর্বে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সরিয়ে না নিলে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় মারধর ও হয়রানিরও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

এ ঘটনায় আজিমের মামা মোস্তাক আহমদের প্ররোচনার কথা উল্লেখ করে রামু থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে (জিডি নং-৬০২, তারিখ: ১১ এপ্রিল ২০২৬)। জিডিতে সাংবাদিক সাগর দাবি করেন, মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

সাংবাদিক সাগরের ভাষ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ গোয়ালিয়াপালং টাইংগাকাটা এলাকায় সক্রিয় একটি মানবপাচার চক্রের চিত্র উঠে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোস্তাক আহমদ ও নুরুল করিব (বাদশা) নামে দুজনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধে জড়িত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চক্রটি দরিদ্র যুবকদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি তিন থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা আদায় করে। পরে তাদের অবৈধভাবে সাগরপথে পাঠানো হয়। সম্প্রতি সাত যুবককে এভাবে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে তারা থাইল্যান্ডে গিয়ে আটক হন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মানবপাচারের পাশাপাশি অপহরণ করে জিম্মি রেখে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। গত ৩০ মার্চ দুই যুবককে তুলে নিয়ে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোকে পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখান থেকে নারী, শিশু ও পুরুষদের সংগ্রহ করে ট্রলারের মাধ্যমে সাগরপথে পাচার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। ফলে এলাকায় এক ধরনের ভীতিকর নীরবতা বিরাজ করছে।

অভিযুক্ত মোস্তাক আহমদ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” একইভাবে নুরুল করিবও নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।

এদিকে, সাংবাদিকের ওপর হুমকির ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং হুমকির শিকার সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ নিশ্চিত করেছেন, জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রামু ক্রাইম রিপোর্টার ইউনিটির আহ্বায়ক মো. সাঈদুজ্জামানের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে রামুর বিস্তীর্ণ এলাকা মানবপাচারের বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তার ভাষ্য, “এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর