উখিয়ার হলদিয়া পালংয়ে পবিত্র ঈদের দিন চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক কুরিয়ার সার্ভিস কর্মীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত ওই কর্মী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের খেওয়াছড়ি এলাকায় গত ২১ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মোহাম্মদ ইমরান হাসান রিয়াদ (১৮) একটি কুরিয়ার সার্ভিসে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত রয়েছে।
এ ঘটনায় ফিরোজ মিয়া উখিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তারা হলেন— মোহাম্মদ রিদোয়ান ওরফে শাকিল (২২), ছৈয়দ মিয়া (৫০), জসিম উদ্দিন (২৮), রিদুয়ানুল ইসলাম (২০), আহেদুল ইসলাম (২১) এবং মোহাম্মদ ইউনুছ (১৯)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহত রিয়াদের পিতা ফিরোজ মিয়ার অভিযোগ, পূর্ব বিরোধের জেরে এলাকার কয়েকজন যুবক পরিকল্পিতভাবে তার ছেলের ওপর হামলা চালায়।
তিনি জানান, প্রায় দুই মাস আগে একই স্থানে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার ছেলের কথা কাটাকাটি হয়। এর পর থেকেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল তারা।
ঘটনার দিন রাতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে খেওয়াছড়ি এমআরসি ব্রিক ফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে তার পথরোধ করে। এসময় তারা লোহার হাতুড়ি, লাঠি ও চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা তার মাথা, বুক, পিঠ ও কোমরে গুরুতর আঘাত করে। একপর্যায়ে লোহার হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এছাড়া গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
হামলার সময় তার পকেট থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন (মূল্য আনুমানিক ১৮ হাজার ৫০০ টাকা) ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু চক্র চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।