কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত কিছু নেতা–কর্মী দোসর পুনরায় সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত ইসলামী ও এনসিপির নেতা কর্মীদের মাঝে আলোড়ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাদের অনেক নেতা–কর্মী মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার ও নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। সে সময় অনেককে দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, টেকনাফ উপজেলায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বেশ কিছু নেতাকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করতে মামলা ও প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। এতে অনেক নেতাকর্মীর স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে দাবি করেন তারা।
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র–জনতার আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিযোগ, পূর্বে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে চিহ্নিত কিছু আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি ও নেতা সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে আবার এলাকায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় তারা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়ে ১২ই ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার জন্য সকল ধরনের ষড়যন্ত্র এবং অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন। উখিয়া টেকনাফের জনগণ তা রুখে দিয়েছে।
সম্প্রতি টেকনাফে আওয়ামী লীগের দোসর চেয়ারম্যান, মেম্বার সহ সিনিয়র নেতা কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ইফতার মাহফিল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিচিত মুখ গুলোর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। অনেকের ধারণা পলাতক আওয়ামী লীগের দোসর মেম্বার চেয়ারম্যান এবং নেতাদের এলাকায় উপস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করছেন। এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান নুর হোসেন বিএ ফের দায়িত্ব নিয়ে পরিষদে বসার খবর খুবই চাওড় হয়েছে। টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বিএনপির নেতা কর্মীদের সব চেয়ে মিথ্যা মামলার আসামি করার নৈপথ্য ছিল দোসর নুর হোসেন চেয়ারম্যান।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের মতে, এ সময়ে এসে আওয়ামী লীগের দোসর নেতা কর্মীরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করা মানে রাষ্ট্রের অস্থিরতা নৈরাজ্য সৃষ্টির লক্ষণ হতে পারে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও নেতাকর্মীদের সাক্ষাত বিভিন্ন সামাজিক প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ ইঙ্গিত দেই ফের তারা মাঠে আধিপত্য বিস্তারের মিশনে নেমেছে। তাদের হারিয়ে যাওয়া কতৃত্ব বলয় তৈরির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যা সরকারের দূর্বলতা বহিঃপ্রকাশ। আওয়ামী লীগ মাঠে সক্রিয় হওয়া মানে জুলাই আগষ্টে আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করা ছাত্র জনতার বুকের উপর চুরি চালানো। তার ব্যতিক্রম নয় সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদে স্বপদে বহাল হতে চাওয়া নুর হোসেন বিএ।