কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালীতে ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা ও বৈশাখী মেলার আড়ালে চলছে প্রকাশ্য জুয়ার আসর। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রাথমিক দায়িত্বে থাকা গ্রাম পুলিশের সরাসরি নেতৃত্ব ও পাহারায় এই জুয়ার সিন্ডিকেট পরিচালিত হলেও, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ‘নীরব’ ও ‘নিষ্ক্রিয়’। প্রশাসনের এমন রহস্যজনক উদাসীনতায় মেলা প্রাঙ্গণ এখন জুয়াড়িদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলার প্রথম দুই দিনেই প্রশাসনের নাকের ডগায় অর্ধকোটি টাকারও বেশি অবৈধ জুয়ার লেনদেন হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যেই ‘চরকা’, ‘ডাবু’ ও ‘কার্ড’ খেলার নামে লাখ লাখ টাকার বাজি ধরা হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষকে যেখানে গ্রাম পুলিশের শরণাপন্ন হওয়ার কথা, সেখানে খোদ গ্রাম পুলিশের কতিপয় সদস্য এই জুয়ার আসরের মূল সমন্বয়ক ও রক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। তাদের প্রকাশ্য পাহারার কারণেই জুয়াড়িরা কোনো প্রকার ভয় ছাড়াই নিরাপদে তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
অথচ মেলা প্রাঙ্গণে এত বড় আইন-বহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং বিপুল অংকের অবৈধ অর্থ লেনদেন চললেও স্থানীয় প্রশাসন বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা বা জোরালো অভিযান দেখা যায়নি। সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও অনুমতি ছাড়া কীভাবে একটি ঐতিহ্যবাহী মেলায় প্রকাশ্যে গ্রাম পুলিশের নেতৃত্বে এমন জুয়ার মহোৎসব চলতে পারে? এই নীরবতা কি শুধুই উদাসীনতা নাকি এর পেছনে কোনো পর্দার আড়ালের সমঝোতা রয়েছে—তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলছে।
জুয়ার এই মরণনেশার চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে স্থানীয় পরিবারগুলোকে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর এবং শ্রমজীবী যুবসমাজের একটি বড় অংশ এই জুয়ার ফাঁদে পা দিয়ে মাত্র দুই দিনেই সর্বস্ব হারিয়েছে। ফলে অনেক পরিবারে পারিবারিক অশান্তি, কলহ ও তীব্র অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের মহোৎসব শুরু হতে পারে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও মুরুব্বিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা ও বৈশাখী মেলা আমাদের এলাকার একটি সুস্থ সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু গ্রাম পুলিশের নেতৃত্বে প্রশাসনের চোখের সামনে যেভাবে যুবসমাজ ধ্বংস করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের এই নীরব ভূমিকা আমাদের বিস্মিত ও আশাহত করেছে।”
এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যুবসমাজকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অবিলম্বে মেলা প্রাঙ্গণে টাস্কফোর্স বা বিশেষ অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন অবরুদ্ধ এলাকাবাসী। একই সাথে অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশের সদস্যদের চিহ্নিত করে দ্রুত চাকরিচ্যুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।