কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পাগলির বিল এলাকার মৃত সালেহ আহমদের ছেলে আজিজুল হক ভুট্টোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও ফেনসিডিল ব্যবসা পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রকাশ্যে ও বেপরোয়া ভাবে সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে মাদক এনে নিজ বাড়িতে মজুত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুট্টোর নেতৃত্বে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বরইতলি ও সোনাইছড়ি সীমান্ত এলাকা হয়ে নিয়মিত ইয়াবা ও ফেনসিডিল উখিয়ায় প্রবেশ করায়। এসব মাদক প্রথমে ভুট্টোর বাড়িতে এনে গোপনে সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন খুচরা মাদক ব্যবসায়ীর কাছে সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ভুট্টোর বাড়িতে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের মাদক আনা-নেওয়া হয় এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কারবারিরাও সেখানে যাতায়াত করে। অভিযোগ রয়েছে, তার মাদক ব্যবসা শুধু কক্সবাজার বা চট্টগ্রামকেন্দ্রিক নয়, বরং ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় চট্টগ্রামে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা আজিজুল হক ভুট্টো বর্তমানে গাড়ি, বাড়ি ও একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক বনে গেছেন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— অল্প সময়ের ব্যবধানে কীভাবে তিনি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন।
আরও জানা গেছে, ভুট্টো ২০০৫ সাল থেকে একাধিক ডাকাতি মামলার পলাতক আসামি ছিলেন। পরে ২০১৮ সালের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেন। জেল থেকে বের হওয়ার পর তিনি আরও সক্রিয়ভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রে আরো জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৮ মে র্যাব-১৫ এর সদস্যরা ভুট্টোর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারসহ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে পরবর্তীতে তিনি জামিনে বের হয়ে আবারও একটি সিন্ডিকেটকে সাথে নিয়ে আগের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
আরো জানা গেছে, ইয়াবা কারবার নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় এক স্থানীয় সাংবাদিকের ওপর ভুট্টোর নেতৃত্বে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। থানা সূত্রে জানতে পারি ঐ সাংবাদিক ভুট্টোসহ চারজনের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নং-১০২/২৬।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ভুট্টোর বাড়িকে ঘিরে আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্র মতে, ঐদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় র্যাব পরিচয়ে দুইজন ব্যক্তি ভুট্টোকে পাগলির বিল,এলাকা থেকে আটক করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাড়িতে মজুত রাখা প্রায় আড়াই লাখ ইয়াবা নিয়ে নেয়। পরে ভুট্টোর ছেলে আরিফুল হক আকাশ,মৃত আব্দু ছালামের ছেলে সোহেলসহ কয়েকজন মিলে র্যাব পরিচয়ে আসা ব্যক্তিদের পথরোধ করে ইয়াবা গুলো ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণেই আজিজুল হক ভুট্টোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে সীমান্তবর্তী উখিয়া এলাকায় মাদক কারবার দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে এবং তরুণ সমাজ ভয়াবহভাবে বিপথগামী হয়ে পড়ছে। আরো জানা যায়, ভুট্টোর বিরুদ্ধে ডাকাতি মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছে, ভুট্টোর নেতৃত্বে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ভুট্টোর বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত গ্রেফতারসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।