কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের সাবেক রুমখা ক্লাসপাড়া এলাকায় রাকিবুল ইসলাম সৈকত নামের এক যুবককে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন পরিচয় ও কৌশলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৈকত বর্তমানে বন বিভাগের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস করছেন। তার পিতার নাম ইউনুস ওরফে ইউনুস ড্রাইভার। বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি স্থানীয়দের নজরদারিতে রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক নিকটাত্মীয়ের দাবি, সৈকতের পূর্বপুরুষ রোহিঙ্গা ছিলেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার দাদাকে স্থানীয়ভাবে “বার্মাইয়া বুইজ্জা” নামে ডাকা হতো। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কয়েকজন নেতা।
তাদের ভাষ্য, যদি কোনো ব্যক্তি রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন করে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশি পরিচয়ে স্থানীয়দের ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকেন, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ কারণে তার পূর্বপুরুষের পরিচয়, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তির প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈকতের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, নারী সংক্রান্ত নানা অনিয়ম, মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এবং হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নানা অপকর্মের ঘটনায় তার নাম আলোচনায় এসেছে বলেও দাবি করেন তারা।
থানা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে একটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার আদালতে জিআর-১৬১/২০২৫ নম্বর একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে বন বিভাগের জায়গা দখলের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাকিবুল ইসলাম সৈকতের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।