কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিন দিন যেন মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা। বিশেষ করে বাস দুর্ঘটনায় বাড়ছে প্রাণহানি। গত মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাসে মহাসড়কটিতে ৪১টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৩ জন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কক্সবাজার সার্কেলের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিল মাসে ২৩টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত হন। আহত হন শতাধিক। আর মার্চ মাসে ১৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আরও ১০ জন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অপ্রশস্ত মহাসড়ক, লবণ পানির কারণে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া, অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, অতিরিক্ত ওভারটেকিং, মহাসড়কে নিষিদ্ধ ছোট যানবাহনের চলাচল, অতিরিক্ত ওজন বহন এবং সড়কের দুই পাশের উঁচু-নিচু অবস্থাসহ নানা কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু পরিবহনের চালকদের বেপরোয়া প্রতিযোগিতামূলক চালনার কারণেও দুর্ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে মারছা পরিবহনের বিরুদ্ধে যাত্রীদের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি।এদিকে টানা দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। সড়কটিকে নিরাপদ করতে বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি:) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন,গত দুই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য ১ কোটি ১ ০লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই তা বিতরণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করা হচ্ছে। চট্রগ্রাম থেকে কক্সবাজার মহাসড়কে কক্সবাজার অংশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লাল পতাকা দিয়ে চালকদের সতর্ক করা হচ্ছে। এছাড়া বাস টার্মিনালসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চালক,পথচারী,যাত্রীদের সড়ক নিরাপত্তামুলক লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এরই মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার হাশমতের দোকান, ঠাকুরদীঘি, পদুয়া, আধুনগর, হাজির রাস্তা, চুনতি ও জাঙ্গালিয়া এলাকা। এছাড়া চকরিয়ার ইসলামনগর ইমাম বুখারী মাদ্রাসা এলাকা, বানিয়ারছড়া আমগাছতলা, হারবাং লালব্রিজ, আজিজনগর, চকরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এলাকা, মালুমঘাট, ডুলাহাজারা, খুটাখালী জাতীয় উদ্যান, রামু রাবার বাগান, ঝিলংজা ও কক্সবাজার শহরের প্রবেশমুখ ডলফিন মোড়কে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক দুর্ঘটনায় নিহত শামীম ফকিরের ছেলে প্রমা বলেন, এই মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। বেপরোয়া পরিবহনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার – চট্টগ্রাম মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না।এজন্য দায়ী বেপরোয়া বাস। সাথা চার লাইনে উন্নতি করা হলে দুর্ঘটনা কমে যাবে।