• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম:
ওসি-এসআইয়ের গাফিলতি! থানায় অভিযোগের জেরে চলা বিরোধের বলি হলো উখিয়ার সৈয়দা খাতুন কক্সবাজারে হঠাৎ পর্যটক খরা, হতাশ পর্যটন ব্যবসায়ীরা হা-হা রিয়েক্ট কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থকদের হামলা, ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু উখিয়া পাগলির বিলের শীর্ষ মাদক কারবারি ভুট্টোর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওসি ও এনএসআই পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়ানোর অভিযোগে সুজন রানাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন কক্সবাজারে নতুন আতঙ্ক সৈকতের আয়নাবাজি, স্থানীয়দের ক্ষোভ ও তদন্তের দাবি সাংবাদিক মুজিবকে হেনস্থা- উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের বিবৃতি ও নিন্দা পানের দোকানি থেকে ইয়াবা রাজত্বের নতুন ‘ডন’ মুন্না সীতাকুণ্ডে অবৈধভাবে সরকারি চাল মজুদ, ৫ লাখ ৭৮ হাজার কেজি চাল জব্দ; গ্রেফতার ১ রামু প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন সম্পন্ন আবদুল্লাহ আল মামুন সভাপতি, সোয়েব সাঈদ সাধারণ সম্পাদক

ওসি-এসআইয়ের গাফিলতি! থানায় অভিযোগের জেরে চলা বিরোধের বলি হলো উখিয়ার সৈয়দা খাতুন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১২০ বার
সময় : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

উখিয়ার টাইপালং গ্রামে দেয়ালে জয়বাংলা স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল এক মায়ের প্রাণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুতেই পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি এত দূর গড়াত না।

নিহত সৈয়দা খাতুনের (৫০) পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাতে তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান ও তাঁর বন্ধু ইউনুসের ওপর হামলা চালায় একদল লোক। ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সৈয়দা খাতুনও মারধরের শিকার হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাটি ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জামায়াত নেতা ছৈয়দ আহমদের ভাষ্য, গত ৩০ এপ্রিল টাইপালং মাদ্রাসা ও আশপাশের দেয়ালে ‘জয়বাংলা’ ও ‘খেলা শুরু’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা হয়।

পরদিন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম কয়েকজন তরুণের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

ছৈয়দ আহমদ বলেন, অভিযোগের পর অভিযুক্ত পরিবারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। “আমরা আতঙ্কে ছিলাম। আমার ছেলে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়,” বলেন তিনি।

থানায় দেওয়া অভিযোগের কপিতে নিহতের ছেলে আব্দুর রহমানের নামও রয়েছে। তাঁর দাবি, “আব্দুল করিম, মিজান সিকদার ও তাঁদের সহযোগীরা আমাদের ওপর হামলা চালান। আমার মা বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।”

নিহতের ছেলে ইমরান বলেন, “আমার চোখের সামনে মাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দিনের পর দিন বাড়িছাড়া ছিলাম।”

ঘটনার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ‘হা-হা’ প্রতিক্রিয়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইউনুসকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁকে পুলিশ হেফাজতেও নেওয়া হয়। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ছাড়া পেয়ে ইউনুস বলেন, “আমাকে ছাত্রলীগ সমর্থক বলে মারধর করা হয়েছে।”

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, ইউনুস কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন। যাচাই শেষে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দেয়ালে স্লোগান লেখার ঘটনায় ৬ মে উখিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন টাইপালং মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুর রহিম। স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্বে থাকা এসআই ইনুমং মারমা কার্যকর কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি। বরং অভিযুক্ত পরিবারগুলোকে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে।

স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ মামুন বলেন, “পুলিশ সময়মতো নিরপেক্ষ তদন্ত করলে আজ একজন মাকে মরতে হতো না।”

যদিও এসআই ইনুমং মারমা বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমানও দাবি করেন, দেয়ালে স্লোগান লেখার ঘটনা ও নারী নিহত হওয়ার ঘটনার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক নেই।

রবিবার টাইপালংয়ে সৈয়দা খাতুনের জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। জানাজায় উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী দোষীদের বিচারের দাবি জানান। একই দাবি করেন জেলা জামায়াতের আমির নুর আহমদ আনোয়ারীও।

অন্যদিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও তাঁর ছেলে জিসান সিকদার সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁদের জড়ানো হচ্ছে।

ঘটনার পর থেকে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম ও তাঁর ছেলে আকাশসহ কয়েকজন অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

সৈয়দা খাতুন হত্যার বিচারের দাবিতে রবিবার উখিয়ায় সড়ক অবরোধ ও কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়। তবে রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর