কক্সবাজারের উখিয়ায় বনভূমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পুরোনো হলেও নতুন করে আলোচনায় আসছে নুরুল হকের নাম।
জানা গেছে, তার একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও দখলবাজি থেমে নেই, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
সরেজমিনে, পালংখালী ইউনিয়নের থ্যাংখালী বিটে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। বিশেষ করে বালুখালী শিয়ালিয়াপাড়ায় এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেন নুরুল হক।
অনুসন্ধান ও তথ্য সুত্রে জানা গেছে, নুরুল হক অতীতে ডাকাতি, বনভূমি দখল ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তারই পার্শ্ববর্তী লোকজন। নানা অপরাধে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। বনভূমি জবর দখলেও রয়েছে মামলা- বন ১১০/২০২৪ পি ও আর.মোকদ্দমা নং- ০৪ থাইঃ ৩০ উখিঃ ২০২৪-২৫।
সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বনের জমি জবরদখল করলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা ( সহকারী বন সংরক্ষক) শাহীনুর ইসলাম জানিয়েছেন, বন বিরোধী কার্যকলাপে উখিয়া রেঞ্জ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মামলা হওয়ার পরেও যদি কেউ বনভূমি জবরদখল করেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ও দেন তিনি।
অনেকেই বলছে, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এলাকায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন নুরুল হক। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বনভূমি দখল করে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন।
তৎসময়ে কৌশলে নিজের ছেলে সালাউদ্দিনকে ছাত্রলীগের কর্মী পরিচয়ে পুলিশের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার পর তার প্রভাব আরও বেড়ে যায়। এরপর থেকেই এলাকায় তার দাপট বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। বনভূমি জবরদখল ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনা নিয়মিত চালিয়ে আসছে।
সেই ২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বনভূমি দখল শুরু করেন তিনি। প্রথমে শিয়ালিয়াপাড়া এলাকায় দখল কার্যক্রম শুরু করে পরে তা বিস্তৃত হয় মরাগাছতলা এলাকায়। সর্বশেষ বালুখালী পানবাজার এলাকাতেও গড়ে তোলা হয়েছে তার দালান।
শুধু নিজেই নয়, তার আত্মীয়স্বজনদেরও বনভূমি দখলে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে নুরুল হকের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে তার জামাতা রুবেল রানাকে একই পদ্ধতিতে বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণে সহায়তা করেও আলোচনায় আসেন তিনি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নুরুল হক নিজে বনভূমি দখল করে বসে থাকেন না, বরং অন্যদের সুপারিশ নিয়ে তাদেরও দখল করে দেওয়ার কাজেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সে নিজে দখল করে, আবার অন্যদেরও দখল নিতে সাহায্য করে। এতে ওই এলাকায় পুরো বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে নাশকতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে নতুন করে মামলা দায়ের হয়েছে। নাশকতা মামলা নং- ১৮/১১ (২৫) ও চাঁদাবাজি মামলা নং ২৬ ( ১১/৩/২০২৬)। তবে এসব মামলার পরও তার কার্যক্রমে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। ছেলে পুলিশ সদস্য হওয়ায় মামলা নিয়ে তেমন সমস্যায়ও পড়েন না তিনি।
এসব বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নুরুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে মামলা আছে এবং মরাগাছ তলায় বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণের কথা স্বীকার করলেও অন্যান্য জায়গায় তিনি অস্বীকার করেন।
সম্প্রতি তার জামাতা রুবেল রানার স্থাপনা নির্মাণ করলেও সেটি বনভূমি নই বলে দাবি করেন তিনি।
তবে স্থানীয়রা বলছে, শিয়ালিয়াপাড়ায় অধিকাংশ জমি বনভূমির। কেউ খতিয়ান বললেও সেটি মিথ্যা বলে দাবি করেন তারা।
প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই তিনি বারবার একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারছেন তিনি এমন অভিযোগও করেন অনেকেই।
পরিবেশবাদীরা বলছে, এভাবে বনভূমি দখল অব্যাহত থাকলে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। বন উজাড়ের ফলে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়বে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও।