দেশে গত এক সপ্তাহে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩০৫ জন। এই সময়ে সংক্রমিত হয়েছেন ১৯,৭৮৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি মাসের প্রথমদিক থেকেই বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা তরঙ্গ আকারে ওঠানামা করছে। গত ১৭ই জুলাই দেশে ৫১ জনের মৃত্যু হয়। এরপর ২দিন মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও ২০শে জুলাই মৃত্যু হয় ৫০ জনের। ২১ ও ২২শে জুলাই যথাক্রমে ৪১ ও ৪২ জন এবং গতকাল ৫০ জনের মৃত্যু হয়। যা গড়ে প্রতিদিন ৪৩ জনের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৩৮ জন পুরুষ, ৬৭ জন মহিলা।

গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। ময়মনসিংহ বিভাগে সব চেয়ে কম। এই সময়ে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ১১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬২ জন, খুলনা বিভাগে ৪৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩০ জন, রংপুর বিভাগে ১৭ জন, সিলেট বিভাগে ১৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১৫ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন। এই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন ২৬৩ জন। বাসায় মৃত্যু হয়েছে ৪২ জনের।
এদিকে, গত জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসের নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমছে। উচ্চ সংক্রমণের মধ্যে যখন নমুনা পরীক্ষা বেশি হওয়ার কথা তখন দেখা মিলছে উল্টো চিত্র। জুন মাসে একদিনে পরীক্ষা করা হয়েছে সর্বোচ্চ সাড়ে আঠারো হাজার। জুলাই মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে গড়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৪,২৮০টি। গত সপ্তাহে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে  ১২,২৪৫টি। এর মধ্যে একদিনে নমুনা পরীক্ষা সর্বনিম্ন সাড়ে ১০ হাজারের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে। নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমলেও আক্রান্তের সংখ্যা তেমন একটা কমেনি। এক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৭৮৭ জন।  এর মধ্যে ১৭ই জুলাই ৩০৩৪ জন, ১৮ই জুলাই ২৭০৯ জন, ১৯শে জুলাই ২৪৫৯ জন, ২০শে জুলাই ২৯২৮ জন, ২১শে জুলাই ৩০৫৭ জন, ২২শে জুলাই ২৭৪৪ এবং ২৩শে জুলাই ২৮৫৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
শনাক্ত রোগী বিবেচনায় গত এক সপ্তাহে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। করোনার নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ১২ শতাংশ। এখন পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ২ লাখ ১৬ হাজার ১১০ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৮০১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ২০৮ জন। দেশে করোনাভাইরাস হানার শুরু থেকেই করোনা শনাক্তের পরীক্ষা নিয়ে নানামুখী বিতর্ক দেখা দেয়। চলে টেস্টের নামে জালিয়াতি। অর্থের বিনিময়ে করোনা নেগেটিভের ভুয়া রিপোর্ট নিয়ে বিদেশ গিয়ে বিমানবন্দর থেকে ফেরতের ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এছাড়া নানা ভোগান্তি এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ ভুক্তভোগীরা বলছেন, অনেকেই বাধ্য না হলে পরীক্ষা করছেন না। পরীক্ষা করলে উল্টা-পাল্টা রিপোর্টও আসছে। এছাড়া ফলাফল পেতে অনেক বিলম্ব হচ্ছে। যা ওই সময়ে একজন করোনা রোগী আরো বেশি মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। গত ৮ই মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বাড়ে সংক্রমণ। দেশে প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ই মার্চ। তখন দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬শে মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়িয়ে এ ছুটি ৩০শে মে পর্যন্ত করা হয়। ছুটি শেষে করোনার বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই ৩১শে মে থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। তবে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ৩০শে জুন দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয় ৬৪ জনের। এর আগে করোনা পরীক্ষা সরকারিভাবে বিনামূল্যে করা হলেও জুলাই শেষে ফি নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এরপর ২রা জুলাই সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড চার হাজার ১৯ জনে। করোনা টেস্টের ফি নির্ধারণ করার পর নমুনা শনাক্তের হার হঠাৎ করেই কমতে থাকে।