ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলেও গত তিনদিনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে ১৯৭ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। প্রথম চালানে গত সোমবার ৪১ মেট্রিক  টন, গতকাল মঙ্গবলবার ৬০ মেট্রিক টন এবং আজ বুধবার ৯৬ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে প্রবেশ করেছে। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মোট ১ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন ইলিশ যাবে ভারতে।

আজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল কাস্টমস কার্গোশাখার রাজস্ব কর্মকর্তা আকসার উদ্দীন মোল্লা। তিনি বলেন, ‘গত তিনদিনে ১৯৭ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়েছে। শুল্ক মুক্ত সুবিধায় এ ইলিশ যাচ্ছে ভারতে।’

সংকটের কারণে গত আট বছর ধরে দেশের বাইরে ইলিশ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বন্ধুত্বের সম্পর্ক জোরদার রাখতে গত দুই বছর ধরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় উৎসব পূজাতে ইলিশ দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠায় বাংলাদেশ। এ বছর পরিমাণ বাড়িয়ে শারদীয় দূর্গা পূজার আগেই গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিশ্রুতির ১ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টক ইলিশ যাওয়া শুরু করেছে ভারতে। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে বাকি ইলিশ ভারতে রপ্তানির নির্দশনা রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।

বাংলাদেশের নয়জন রপ্তানিকারক ইলিশ রপ্তানিতে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি পেয়েছে। ইলিশ রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ইমি এন্টারপ্রাইজের কবীর হোসেন জানান, গত তিনদিন ধরে তারা ভারতে ইলিশ রপ্তানি করছেন। রপ্তানিতে এখন পর্যন্ত কোনো বাধা সৃষ্টি হয়নি।

এদিকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে বাজারে। গত সপ্তাহে যে ইলিশের কেজি ছিল ৬০০ টাকা, তা রাতারাতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে হাজার টাকায়।

সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বন্ধুত্বের কারণে পূজাতে বাংলাদেশ ভারতকে ইলিশ দিচ্ছে, কিন্তু ভারত নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার পেঁয়াজ বন্ধ করে দিয়েছে। এমন আচরণে বাংলাদেশিরা কষ্ট পেয়েছে।