চীনা বাধায় সীমান্ত থেকে পিছু হটেছে সেনারা, বিরোধী কংগ্রেস নেতার এমন অভিযোগের জবাবে পৃথিবীর কোনো শক্তি ভারতীয় সেনাদের লাদাখে টহল দেয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। চীনের সাথে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে বৃহস্পতিবার উত্তেজনা ছড়ায় রাজ্যসভায়।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, বেইজিংয়ের সাথে সমঝোতা, নতুন রণপ্রস্তুতি–এসব নিয়েই বৃহস্পতিবার সরকারের কাছে জবাবদিহির দাবি ওঠে রাজ্যসভায়। লোকসভায় বিবৃতি দেয়ার দুদিনের মাথায়, তাই, আবারও ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হন রাজনাথ সিং।

রাজনাথ সিং বলেন, অবৈধভাবে লাদাখের ৩৮ হাজার বর্গকিলোমিটার জমি দখল করে রেখেছে চীন। এটা স্পষ্টভাবে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির লঙ্ঘন। বেইজিংয়ের কথা ও কাজে মিল নেই। শর্ত ভেঙ্গেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় তারা বিপুল সেনা সমাবেশ ঘটিয়ে রেখেছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের ওপর লম্বা আলোচনার দাবি নিয়ে পার্লামেন্টে উত্তেজনাও ছড়ায় কিছুক্ষণের জন্য।

বিরোধী আইনপ্রণেতারা সামরিক বাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করলেও, প্রশ্ন তোলেন সরকারের সক্ষমতা নিয়ে। অভিযোগ করেন, নিজ ভূখণ্ডেই ভারতীয় বাহিনী টহল দিতে পারছে না।

সাবেক ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্থনি বলেন, গালওয়ান উপত্যকা কখনো বিরোধপূর্ণ এলাকা ছিলো না। সেখানেও ৮ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় আমাদের টহল দিতে দিচ্ছে না তারা। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে, চীন-ভারত পুরো সীমান্তে আমাদের সেনারা টহল দিতে পারে।

স্পর্শকাতর আখ্যা দিয়ে, সীমান্তের পূর্ণাঙ্গ অবস্থা জানাতে অস্বীকৃতি জানান রাজনাথ। তবে আশ্বস্ত করেন, পিছু হটবে না ভারতীয় সেনারা।

রাজনাথ সিং বলেন, সীমান্তে টহল দেয়া নিয়েই সংঘর্ষ ও উত্তেজনা হয়েছে। কিন্তু আমরা পিছু হটবো না। ভারতের সেনাদের সীমান্তে টহল দেয়া থেকে পৃথিবীর কোনো শক্তিই বিরত রাখতে পারবে না। আগেও যেসব টহল ছিলো, সেসব জায়গায় টহল অব্যাহত থাকবে, তা নিশ্চিত করতে চাই সবাইকে।

জুনে, ২০ ভারতীয় সেনার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তেজনা চলছে লাদাখ সীমান্তে। সম্প্রতি মস্কোর মধ্যস্থতায়, বৈঠকে, সেনা কমানোর সমঝোতায় আসে দুই দেশ।