পঞ্চগড়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী পঞ্চগড় জেলা শহরের করতোয়া সেতুর নিচে শনিবার দুপুরে একটি সন্তান প্রসব করেন। কোন অস্ত্রোপচার ও কারো সাহায্য ছাড়াই ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।
প্রসবের পর সেতুর পোলের নিচে বসে ব্যথার যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন ওই নারী। কিছুক্ষণ পর নদীতে পাথর উত্তোলন করতে আসা কয়েকজন এই দৃশ্য দেখতে পান। এসময় কয়েকজন স্থানীয় তাকে খাবার ও পানি কিনে এনে দেন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও তার সন্তানকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ওই নারীর নাম লিপি আক্তার (৩৫)। স্বামীর নাম মাঞ্জা মিয়া।
তার স্বামীর বাড়ি পঞ্চগড় পৌরসভার রামেরডাঙ্গা এলাকায়। মাঞ্জা মিয়াও ভবঘুরে। দীর্ঘদিন ধরেই ওই নারী মানসিকভাবে অসুস্থ। ভরণ-পোষণের কেউ দায়িত্ব না নেওয়ায় এক পর্যায়ে ৪ বছরের এক কন্যা সন্তানসহ ভবঘুরে হয়ে পড়েন তিনি। সন্তানসহ শহরে ভিক্ষাবৃত্তি করে আসছেন তিনি। ঘোরাফেরা করেন শহরেই।
রাত হলে শহরের বকুলতলাসহ বিভিন্ন স্থানে দোকানপাটের সামনে থাকা শেডের নিচে ঘুমাতেন। পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নিরঞ্জন সরকার বলেন, আমরা খবর পেয়ে পুলিশের সহযোগিতায় মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী ও তার সন্তানকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।
মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ আছেন।পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ওই নারী সেতুর নিচে সন্তান প্রসবের পর যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। কিন্তু কেউ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সাহস পাচ্ছিল না। স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে আমরা ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। প্রাথমিকভাবে তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করছে পুলিশ।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, আমরা ওই নারীর স্বামী ও তার মাকে ডেকে এনেছি। চিকিৎসার পর ওই নারীকে তাদের কাছেই হেফাজতেই রাখা হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তাদের সব ধরণের সহযোগিতা করবো’ ।