টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা করেছে স্বামী৷ জনতার সহায়তায় ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ৷

সোমবার (১০ আগষ্ট) দুপুর দেড়টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ২২নং রইক্ষ্যং শরণার্থী ক্যাম্পের রি-এলুকেশন-১, ২ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে৷

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ব্লকের ১৩৫নং রুমের বাসিন্দা দিল মোহাম্মদের ছেলে মোঃ এরশাদ (২৫) ও তার স্ত্রী এক সন্তানের জননী নছিমা খাতুনের (২২) মধ্যে দাম্পত্য কলহ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।

স্বামীর অভিযোগ, স্ত্রী নাছিমা অবাধ্য হয়ে পরকীয়া প্রেমিক শফিক উল্লাহর সাথে মুঠোফোনে কথা বলে। এতে স্বামী ক্ষুদ্ধ হয়ে নিজ ব্লকের মাঝিকে মৌখিক সালিশ দায়ের করেন৷ মাঝি না আসা পর্যন্ত এরশাদকে ধৈর্য্য ধরতে বলে। মাঝিরা আসার পূর্বেই ক্ষুব্ধ স্বামী বাড়িতে থাকা দা দিয়ে স্ত্রী নছিমাকে গলা কেটে জবাই করে হত্যা করে।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই মশিউর রহমান জানান, এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং জনতার সহায়তায় ঘাতক স্বামীকে আটক করা হয়৷

উল্লেখ্য, এরশাদ ঘরের সামনে একটি দোকান দেন। ওই দোকানে একই ব্লকের শফিক উল্লাহ আসা-যাওয়া করায় বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। কোরবানের ঈদের আগে এরশাদ স্ত্রী, ছেলে এবং দোকান দেখাশুনার জন্য বন্ধু শফিক উল্লাহকে দায়িত্ব দিয়ে কক্সবাজারে কাজের সন্ধানে যান। স্বামী কাজে থাকার সুযোগে বন্ধু শফিক ও স্ত্রী নাছিমার মধ্যে গভীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের এই অবৈধ মেলা-মেশার খবর স্বামী এরশাদের কাছে পৌছে। তিনি দ্রুত ঈদের আগে বাড়ি চলে আসেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। একদিন বন্ধু শফিক ও স্ত্রী নাছিমাকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেললে সাংসারিক কলহের সৃষ্টি হয়। ক্ষুদ্ধ স্বামী বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পের সিআইসির নিকট সালিশ দায়ের করেন। তাদের সংসারে সাড়ে ৩ বছরের এক ছেলে থাকায় উভয়কে সংযত হয়ে সংসার জীবন চালানোর জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। এরই মধ্যে স্ত্রী নছিমা তা অগ্রাহ্য করে পরকীয়া প্রেমিক শফিক উল্লাহর সাথে সংসারে আগ্রহী হওয়ায় তা নিয়ে প্রায় সময় কথা কাটাকাটি হতো বলে জানান প্রতিবেশীরা৷