ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ছাত্র সংসদের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ফাল্গুনী দাস তন্বীকে গভীর রাতে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাবি বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের সামনে ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশি ও শামসুন নাহার হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জেসমিন শান্তা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ তন্বীর।

ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী ফাল্গুনী দাস তন্বী বলেন, আমি নাকি নিশি আপুর ‘বিবাহিত’ হওয়ার বিষয়ে কথা বলি। এ নিয়ে আমাকে তারা ডেকে নেয়। তারপর বলে আমি উচু স্বরে কথা বলেছি, বেয়াদবি করেছিস। তারা আমাকে প্রচন্ড মারধর করে। আমার শরীরে দাগ রয়েছে। অনেকেই ভিডিও করেছে। তারা আমার ফোনও নিয়ে রেখে দিসে। এ ঘটনায় আমি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবো। মারধরের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বরাবর অভিযোগ দেবো।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশি এবং শামসুন নাহার হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জেসমিন শান্তা সোমবার রাত ১২টার দিকে আমাকে ফোন দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে যেতে বলেন।

টেলিফোন পেয়ে আমি সেখানে গেলে তারা আমাকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তারা আমাকে মারতে উদ্যত হলে সেখান থেকে আমি দৌড়ে চলে আসি। তখন তারা আমাকে ধাওয়া করে বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের সামনে ধরে ফেলেন। এ সময় তারা আমাকে উপর্যুপরি মারতে থাকেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা দুই যুবক আমাকে ঘিরে ধরে।

মারধরের একপর্যায়ে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শান্তা আমার পায়ে জোরে চাপ দিয়ে ধরে রাখে আর নিশি আমাকে এক পা দিয়ে চাপা দিয়ে এলোপাতাড়ি লাথি মারতে থাকে। তারা আমার গলায় পাড়া দেয়। একপর্যায়ে আমার গলা দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে।

তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও দায়িত্বরত পুলিশ আমাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে৷ আমি প্রাথমিক চিকিৎসা নিই। এখন পর্যন্ত আমি শক্ত কিছু খেতে পারছি না, ব্যথা হয়। রাস্তায় পড়ে যাওয়ায় আমার হাত, পা ও মাথায় আঘাত লাগে।

তন্বীর অভিযোগ, দুই ছাত্রলীগ নেত্রী তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানিয়েছেন বলে জানান তন্বী। নেতারা ব্যবস্থা না নিলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশিকে ফোন করা হলেও কলটি রিসিভ হয়নি।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি শুনেছি। এটা নিয়ে আমরা আজকে কথা বলবো। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।