পরিবারে সচ্ছলতা আনতে মালয়েশিয়া থাকেন পারভেজের বাবা মো. মুঞ্জুরুল হক। মা রুজিনা আক্তার তার পাঁচ সন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জের উত্তর মরিচার চরে বসবাস করেন। ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া পারভেজ ছিল তাদের বড় সন্তান। গত ৯ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি সে। গত রবিবার সকালে ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে ওঠে পারভেজের মৃতদেহ। শুরু হয় চাঞ্চল্য। হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে থানা পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাব। অবশেষে জানা যায়, মায়ের পরকীয়ার বলি হয়েছে সে।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক মাছ ব্যবসায়ীকে ও ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বালু নিয়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া মাগুরার শ্রীপুরে একজনের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ঢাকার টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকা থেকে গত ১৪ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয় হত্যার মূল আসামি রবিউল ইসলাম রবিকে (১৮)। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় পারভেজের ব্যবহৃত সিমসহ একটি টাচ ফোন এবং তার মায়ের ব্যবহৃত সিমসহ একটি বাটন ফোন।

তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হলে সে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। তার স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর পারভেজ হত্যার মূল রহস্য। জানা গেল মা রুজিনার পরকীয়া প্রেমের পথে বাধা হওয়ায় সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে ছেলেকে। হত্যাকারী রবিউলের বাড়ি ঈশ^রগঞ্জ উপজেলার উত্তর মরিচার চর গ্রামে।

পারভেজ মরিচার চর উচ্চবিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ত। পারভেজের বাবা দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় মা রুজিনা জড়িয়ে পড়েন একাধিক পরকীয়ায়। দিন-রাত মোবাইলে কথা বলতেন প্রেমিকদের সঙ্গে। পারভেজ বড় হয়েছে। সে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নানাভাবে তার মাকে বাধা দিতে থাকে। তার মা যে নম্বরগুলোতে কথা বলত পারভেজ কৌশলে ওই নম্বরগুলো ব্লক লিস্টে রেখে দিত। আসামি রবিউলের বাড়ি পারভেজের বাড়ির কাছেই। রুজিনা তার ফোনের ব্লক করা নম্বরগুলো রবিউলের কাছ থেকে আন ব্লক করে নিত। রুজিনা ফোনে কথা বলার জন্য মোবাইলে টাকা ভরে নিতেন রবিউলের মাধ্যমে। পারভেজ দিন দিন আরও জোরালোভাবে তার মায়ের পরকীয়া প্রেমে বাধা দিতে থাকে। তার মাকে ভয় দেখায় সব ঘটনা সে তার বাবাকে বলে দেবে। ভীত হয়ে পড়েন মা। পরিকল্পনা করতে থাকে আপন ছেলেকে হত্যা করে পথের কাঁটা দূর করার। রুজিনা রবিউলকে প্রস্তাব দেন পারভেজকে খুন করার। বিনিময়ে তাকে দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা।

নবীনগরের বড়িকান্দি ইউনিয়নের নূরজাহানপুর গ্রামে মাছ ব্যবসায়ী হানিফ মিয়াকে (৩৫) কুপিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার গভীররাতে নিহতের পুকুরের পাশে। পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠায়। ওসি (তদন্ত) মো. রুহুল আমিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন আছে, খুনের তথ্য বের করতে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুুর ইউনিয়ন পরিষদের পেছনের ধান ক্ষেত থেকে বুধবার রাতে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। নিহত মনিরুল (৪০) উপজেলার চৌগাছি গ্রামের মৃত ইছাহাক আলী মীরের ছেলে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে বৃহস্পতিবার ভোররাতে পুলিশ তিন যুবককে আটক করেছে। তারা হলেন চৌগাছি গ্রামের বীরেন্দ্রনাথ প্রামাণিকের ছেলে প্রণব প্রামাণিক, হাবিব মীরের ছেলে বাবু মীর এবং আইয়ুব হোসেনের ছেলে রাহুল। বৃহস্পতিবার সকালে মনিরুলের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা মর্গে পাঠানো হয়েছে। বেলা ১টা পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে ওসি মো. আলী আাহমেদ মাসুদ নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়া ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বালু ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মো. জামশেদ আলম নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। বুধবার রাতে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বালুমহালের গাড়িতে লোড আনলোড করা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জামশেদ আলমের সঙ্গে স্থানীয় মো. দাউদসহ বেশ কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। একপর্যায় রাতে জামশেদ মুহুরিগঞ্জ সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে তার গাড়িতে গ্যাস ভর্তি করে বাড়ি ফেরার পথে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার মাথায় আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লে­ক্সে ও পরবর্তীতে ফনী জেনারেল হাসাপাতালে নেয়। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। জামশেদ আলম মধ্যম জয়পুর গ্রামের দিল আহাম্মদের ছেলে। ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।ত