নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণে অর্ধশতাধিক মুসল্লি দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৭ মুসল্লিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) বাচ্চু মিয়া জানান, নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় এ পর্যন্ত দগ্ধ ৩৭ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের সবার মাথা থেকে পা পর্যন্ত দগ্ধ।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩৭ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের চিকিৎসায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য চিকিৎসকরাও যোগ দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, এশার নামাজের শেষ সময় এয়ারকন্ডিশনের গ্যাসের লিকেজ হয়ে এ বিস্ফোরণ ঘটে। মসজিদের ফ্লোরের নিচ দিয়ে এয়ারকন্ডিশনের পাইপের সংযোগ ছিল। পাইপ লিক করে বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হচ্ছিল। দরজা জানালা বন্ধ থাকায় কেউ হয়তো ইলেকট্রিক লাইনের কোনো সুইচ চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পার্ক হয়ে বিস্ফোরণটি ঘটে। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক আহত হয় বলে জানান তিনি।

এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার এশার নামাজ শেষে মোনাজাত চলাকালে মসজিদের এসি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এ সময় মসজিদে প্রায় ৫০-৬০ মুসল্লি ছিল। বিস্ফোরণের পর হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার সময় অনেককেই বস্ত্রহীন এবং শরীর ঝলছে যাওয়া অবস্থায় দেখা গেছে। অনেককেই কান্নাকাটি করতে করতে বের হতে দেখা যায়। মসজিদের ফ্লোর রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়।

narayn

এদিকে বিস্ফোরণে মসজিদের দুই টনের ছয়টি এসির সবগুলোর যন্ত্রাংশ বেরিয়ে গেছে। মসজিদের ফ্যানগুলো বাঁকা হয়ে গেছে। বিস্ফোরণে মসজিদের ভেতরে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জমশের আলী ঝন্টু জানান, বিস্ফোরণের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি মসজিদের ভেতরে অনেক লোক দগ্ধ হয়ে পড়ে রয়েছেন। মসজিদের ফ্লোরে রক্তে ভাসছে। মনে হয়েছে ধ্বংসস্তুপ এক মসজিদ।