মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নে এক রাতে কয়েকটি স্থানে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এসব ঘটনা ঘটে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিভিন্নজনের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা নিয়ে যায় ডাকাত দল। এ ছাড়া ২৫টি মোবাইল সেট ও ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নেয় দলটি। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, ষোলআনী-দৌলতপুর সেতুর মাঝখানে ডাকাতি চলে। এ ছাড়া গ্রামের মসজিদ এলাকা ও দুটি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেতুতে ডাকাতির সময় দুপাশে বহু মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু ডাকাতরা অস্ত্রের ভয় দেখালে কেউ সামনে এগিয়ে যেতে পারেনি। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনা সময় গজারিয়া থানায় সাহায্য চেয়ে ফোন করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে ৭/৮ জনের একটি ডাকাত দল মুখোশ পরে ষোলআনী-দৌলতপুর সেতুতে অবস্থান নেয়। পারাপারের সময় তিনটি সিএনজিতে তারা লুটপাট চালায় ও সেগুলো ভাঙচুর করে। তোফাজ্জল হোসেন নামে সিএনজিতে থাকা বেসরকারি একটি ব্যাংক কর্মকর্তার কাছ থেকে ডাকাত দলটি নগদ ৪০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয় আলু ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে নগদ ১৪ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল সেট, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সোহরাব হোসেনের কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল সেট, ৩ সিএনজি চালকের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল সেট ও ৪ হাজার টাকা লুট করে নেয় দলটি।

ভুক্তভোগীরা বলেন, এ সময় সেতুর দুপাশে অনেক মানুষজন ছিলেন। কিন্তু ডাকাত দলেল অস্ত্রের ভয়ে কেউ সামনে এগিয়ে যায়নি। সামনে এগিয়ে গেলে গুলি করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয় দলটি। যে কারণে তারা ভয় পেয়ে যান। তবে তারা এ ঘটনার ব্যাপারে গজারিয়া থানার একাধিক কর্মকর্তাকে জানান। কিন্তু কেউ ঘটনাস্থলে যাননি।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানায়, সেতুর ওপর ডাকাতির ঘটনার পর দলটি দৌলতপুর আটানী মসজিদ এলাকায় ডাকাতি করে। দুটি দোকান ও মেঘনা নদীতে চলাচলকারি বেশ কয়েকটি বাল্ককহেড থেকে নগদ প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও ১৭টি মোবাইল সেট লুটে নেয় তারা। এ সময় বাধা প্রদান করলে মোজাহিদ নামে এক দোকান মালিককে গুলি করে ডাকাতরা। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শামসুল হক ও মুসা নামে বাল্কহেড মালিক জানান, ওই সময় মেঘনা নদীতে চলাচলকারি প্রায় সবগুলো বাল্বহেডে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গজারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মামুন আল রশিদ। তিনি  জানান, গতরাতে বিষয়টি নিয়ে তাদের কাছে ফোন আসে। তবে ঘটনাস্থল দূরে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছাতে পারেনি। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।