বিয়ের প্রলোভনে পড়ে তিন বছর ধরে শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষিত হওয়ার বিষয়ে ফেসবুকে স্টেটাস দিয়ে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

আত্মহননকারী কলেজশিক্ষার্থী সুমাইয়ার বাবা মো. শামীম মিয়া রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে পাকুন্দিয়া থানায় মামলা করেন। মামলার একমাত্র আসামি উপজেলার কালিয়াচাপড়া সুগার মিল হাইস্কুলের সাবেক খণ্ডকালীন গণিত শিক্ষক করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের পাড়া বালিয়া গ্রামের রহমত আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ।

পাকুন্দিয়া উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের ষাইটকাহন গ্রামের শামীম মিয়ার মেয়ে এবং কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের বিএসএস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার শনিবার ভোরে নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন।

আত্মহত্যার আগে সুমাইয়া নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেয়া স্ট্যাটাসে স্কুলশিক্ষক রাসেলের ছবি সংযুক্ত করে তিন বছর ধরে তাকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষিত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন।

সুমাইয়া ফেসবুক লেখেন- ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন বছর ধরে ছাত্রীকে ধর্ষণের পর অন্য মেয়েকে বিয়ে করে ছাত্রীকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা আমার প্রিয় শিক্ষক। আর সেই ভাগ্যবান ছাত্রী আমি নিজে। আল্লাহ আমায় মাফ করো। দেশে এমন শিক্ষক আর কোনো ছাত্রীর জীবনে না আসুক। সবাই আমায় মাফ করবেন। সদ্য এসএসসি পাস করা একটা মেয়ে বিয়ে মানে এসব জানতামই না। ভদ্র স্যারকে বিশ্বাস করতাম; যা বলতো তাই শুনতাম। যাই হোক ভালো থাক সে… বিদায়’

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সুমাইয়ার এ স্ট্যাটাস দেখে চট্টগ্রাম প্রবাসী সুমাইয়ার চাচা বাড়িতে ফোন করে তার মাকে খোঁজ নিতে বলেন। তার মা সুমাইয়ার মা-বাবাকে এ ঘটনা জানালে তারা শনিবার ভোর ৭টার দিকে দৌড়ে সুমাইয়ার কক্ষে গিয়ে দেখেন সুমাইয়া ওই কক্ষে আত্মহত্যা করেছে।

মামলার এজাহার ও পরিবার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে সুমাইয়া উপজেলার কালিয়াচাপড়া চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। সেই সময় জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ গ্রামের রহমত আলীর ছেলে কালিয়াচাপড়া চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী শিক্ষক রাসেল আহমেদের কাছে প্রাইভেট পড়ত। প্রাইভেট পড়ার সময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন শিক্ষক রাসেল আহম্মেদ। দীর্ঘদিন ধরে এ সম্পর্ক চলে আসার সময় বিয়ের প্রলোভনে দৈহিক সম্পর্কও গড়ে তুলেন ওই শিক্ষক।

২০১৯ সালে রাসেল আহম্মেদ ঢাকার একটি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে সুমাইয়ার সঙ্গে ভিন্নরকম আচরণ শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষক সুমাইয়াকে প্রতারিত করে গত ২১ আগস্ট অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করেন। আর প্রতারণার শিকার কলেজছাত্রী সুমাইয়া দুঃখ-ক্ষোভ ও অভিমানে শনিবার ভোর ৭টার দিকে আত্মহত্যা করেন।

এদিকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার এ ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ওই শিক্ষকের বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এলাকাবাসী।

পাকুন্দিয়া থানার ওসি মো. মফিজুর রহমান জানান, কলেজছাত্রী সুমাইয়ার বাবা রোববার দুপুরে শিক্ষক রাসেল আহম্মেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।