একাধিক চীনা যুদ্ধবিমান বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তাইওয়ানের আকাশসীমার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবেশ করেছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এটিকে অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছে, বেইজিংয়ের এমন কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। খবর চ্যানেল নিউজ এশিয়ার।

চীন তাইওয়ানকে সাবেক প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করলেও তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র মনে করে। নিজেদের সীমানার পাশে চীনা সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে বারবার আপত্তি জানিয়ে আসছে তাইওয়ান। চীনের পক্ষ থেকে এসব সামরিক কার্যক্রমকে সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় দাবি করা হচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহে তাইওয়ানের পাশের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে মহড়া চীনকে মহড়া দিতে দেখা যাচ্ছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার সকালে চীনা এসইউ-৩০ এবং জে-২০ যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এ মহড়ায় বেশ কিছু যুদ্ধ বিমান অংশ নেয়।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলিকে ক্ষতিগ্রস্থ করে চীনা কমিউনিস্টদের এমন একতরফা পদক্ষেপের চরম নিন্দা জানাচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

মানুষকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ‘তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী এ ধরনের একপাক্ষিক পদক্ষেপের বিষয়ে দ্রুত এবং যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হয়েছে।’

তাইওয়ানের লিবার্টি টাইমস পত্রিকা জানিয়েছে, চীনা বিমানগুলোকে আকাশসীমা ছেড়ে যাওয়ার জন্য রেডিওতে ২৪টি মৌখিক সতর্কতা জারি করেছিল তাইওয়ান। বর্তমানে তাইওয়ান দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব উপকূলে অস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে এ নিয়ে চীনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

চীনবিরোধী নেত্রী হিসেবে পরিচিত তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন গত মাসে সতর্ক করেছিলেন যে, দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ানের আশেপাশে উত্তেজনার কারণে দুর্ঘটনামূলক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে এবং যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দুই দেশের যোগাযোগ অবশ্যই বজায় রাখতে হবে।