অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হওয়ার ওই রাত এবং আগে-পরের মোট ১১ দিনের টেকনাফ থানার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গায়েব হয়ে গেছে। টেকনাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি থানার ফুটেজ হাওয়া হয়ে যাওয়া নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধানে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

এদিকে, গতকাল সকাল ১০টার দিকে কারাগারে থাকা আসামি সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস, পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এএসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় এপিবিএনের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব আদালতে হাজির করলে তাদের প্রত্যেককে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার রাতে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাসের গতিবিধির তথ্য তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ ওসি প্রদীপ ঘটনাস্থলের আশপাশে ছিলেন নাকি থানা থেকে

বেরিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন এই প্রশ্নের উত্তর তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ কারণে বিপদ আঁচ করতে পেরে প্রদীপ কুমার দাস ফুটেজ নষ্ট করে ফেলতে পারেন বলে ধারণা তাদের তদন্তকারীদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় আইটি টেকনিশিয়ানকে গত ১৫ আগস্ট টেকনাফ থানায় নেওয়া হয়। থানায় সাবেক ওসি প্রদীপের কক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের জন্য থাকা সরঞ্জাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করে মতামত দেন তিনি। মতামতের ওই প্রত্যয়নপত্রে গত ২৫ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত ১১ দিনের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। মতামতে লেখা হয়, থানার পূর্বপাশের দেয়ালে ১টি এনভিআর বক্স (ডাহুয়া কোম্পানি) পরীক্ষা করে কোনো হার্ডডিস্ক পাওয়া যায়নি। হার্ডডিস্ক না থাকায় কোনো ফুটেজও নেই। এ ছাড়া ওসির টেবিলের পশ্চিম পাশে সংরক্ষিত একই ধরনের বক্সের ভেতর এক টেরাবাইট হার্ডডিস্ক পাওয়া গেলেও তা নষ্ট ছিল। এ জন্য সেখানেও কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। থানায় গুরুত্বপূর্ণ ওই রাতসহ ১১ দিনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ কোথায় গেল এ সম্পর্কে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।