ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় জীবিত গরুর অণ্ডকোষ ও কলিজা কেটে খেয়েছেন তারেক (১৮) নামে এক তরুণ। তবে তিনি ‘মানসিক রোগী’ বলে জানা গেছে। তারেক উপজেলা সদরের তারাগণ গ্রামের আলম খাঁর ছেলে। বিষয়টি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলের মাধ্যমে গরুর মালিকের সঙ্গে আপস করেছে তারেকের পরিবার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে আখাউড়া উপজেলা সদরের তারাগণ গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের তার পালিত একটি গরুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য স্থানীয় একটি মাঠে রেখে আসেন। এ সময় গরুর মালিকের অগোচরে তারেক ধারালো ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ওই গরুর অণ্ডকোষ, নাভি ও কলিজা বের করে খেয়ে ফেলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয়রা তারেককে আটক করে তার পরিবারের সদস্যদের এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে খবর দেন

গরুর মালিক আবু তাহের জানান, কয়েকদিন আগে তিনি হাট থেকে গরুটি কিনে আনেন। ঘাস খাওয়াতে মাঠে গরু রাখার পরই তারেক ওই কাণ্ড ঘটায়। তিনিও জানেন তারেক মানসিক রোগী। পরে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মানিক মিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি আপস-মীমাংসা করা হয়।

তারেকের বাবা আলম খাঁ জানান, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ। কিন্তু কেন এই কাণ্ড ঘটিয়েছে সেটি তিনি বুঝতে পারছেন না।

আখাউড়া পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মানিক মিয়া বলেন, ঘটনাটি আমাকে জানানো হলে দুই পক্ষের সম্মতিতে আপস করা হয়। তারেক মানসিক রোগী হওয়ায় দুই পক্ষের কারও কোনো অভিযোগ ছিল না। ঘটনার পর তাৎক্ষণিক গরুটি জবাই করা হয়। মাংস বিক্রি করে ৩০ হাজার টাকার মতো পাওয়া গেছে। গরুর মালিকও যেহেতু গরিব সেজন্য তারেকের পরিবার জরিমানা হিসেবে গরুর মালিককে ২০ হাজার টাকা দেবে বলে জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে আখউড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল আহমদ নিজামী বলেন, ঘটনাটি আমরা লোকমুখে শুনেছি। কিন্তু কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ নিয়ে আসেনি। ওই তরুণ মানসিক রোগী বলে জানতে পেরেছি।