হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে এক বৃদ্ধাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘাতকদের আঘাতে তার মাথার অর্ধেক অংশ থেঁতলে যায়। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।
লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। আর পুলিশের দাবি, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে ঘাতকদের আইনের আওতায় আনা হবে।
জানা গেছে, ৫ সন্তানের জননী বিধবা জাকিয়া খাতুন। স্বামী ব্যবসায়ী হান্নান ঠাকুর মারা গেছেন দুই বছর আগে। বড় ছেলে মুর্শেদ ঠাকুর সপরিবারে থাকেন যুক্তরাজ্যে। অন্য ছেলে-মেয়েরা পেশাগত কাজে থাকেন বাইরে। ছোট ছেলে জুবেল ঠাকুরকে নিয়ে থাকতেন বানিয়াচং চৌধুরীপাড়া গ্রামে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মাকে বাড়িতে রেখে বাজারে যান জুবেল। আধা ঘণ্টা পর ফিরে এসে দেখেন রক্তে রঞ্জিত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছেন তার মা। তার মাথায় হাতুড়ি গাঁথাসহ মুখমণ্ডলে অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশের ধারণা, দুর্বৃত্তদের আঘাতে ঘটনাস্থলেই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। এদিকে লোমহর্ষক এ হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বের করে দ্রুত শাস্তির দাবি জানান।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. সেলিম ও বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই প্রতিবেশীকে আটক করেছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) শেখ মো. সেলিম বলেন, আমরা এ হত্যাকাণ্ডকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং ঘাতকরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে।