করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী যতোই বাড়ছে, করোনা চিকিৎসায় চট্টগ্রামের একমাত্র ডেডিকেটেড হাসপাতাল চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ওপর চাপও ততো বাড়ছে। ফৌজদারহাটের বিশেষায়িত হাসপাতাল বিআইটিআইডিতে কিছু রোগীর স্থান হলেও মূল চাপ পড়ছে একটি হাসপাতালের ওপরেই। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার নিজে থেকেই উদ্যোগী ভূমিকা নিতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল।

করোনার চিকিৎসায় এতোদিন শুধু পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করে গেলেও এবার আলাদা সুরক্ষিত ব্লক তৈরি করে করোনা রোগীর চিকিৎসার চাপ হালকা করতে উদ্যোগ নিচ্ছে নগরীর এই প্রধান হাসপাতালটি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেলে এখনই চালু করা যেতে পারে ১০০ শয্যার ব্লক, সঙ্গে ১০ আইসিইউ।

এর আগে মুমূর্ষু করোনা রোগীদের জন্য চট্টগ্রামের বেসরকারি ১২টি ক্লিনিকের তালিকা করে পর্যায়ক্রমে ওই হাসপাতালগুলোর আইসিইউ বেড ব্যবহারের কথা জানিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। ওই ১২টি ক্লিনিকে শতাধিক আইসিইউ বেড রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে ক্লিনিক মালিকদের একটা অংশ হঠাৎ করেই চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী জাকির হোসেন সড়কের পরিত্যক্ত হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে সামনে নিয়ে আসেন।

এরপর বিস্তর ঢাকঢোল পিটিয়ে ২৫ এপ্রিল করোনা রোগীদের জন্য সেই হাসপাতাল চালুর কথা থাকলেও প্রতিদিন ‘২-১ দিনের মধ্যে চালু হয়ে যাচ্ছে’ এমন প্রতিশ্রুতি দিতে দিতে সর্বশেষ ১১ মে পর্যন্ত ঠেকেছে সেই ২-১ দিন। ফলে তিন কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত চট্টগ্রাম বিভাগের করোনার চাপ সামলাতে হচ্ছে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল আর ফৌজদারহাটের বিশেষায়িত হাসপাতাল বিআইটিআইডিকে। এর মধ্যেই ক্লিনিক মালিকদের একটি অংশ কৌশলে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অধীনে গছিয়ে দিতে এখনও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি চমেক হাসপাতালের একটি ইউনিট হিসেবে হলি ক্রিসেন্টকে পরিচালনার একটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে।

তবে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ুন কবির চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেছেন, ‘আমার বর্তমান জনবল দিয়ে হলিক্রিসেন্ট হাসপাতাল পরিচালনা সম্ভব নয়। চমেক হাসপাতালের ধারণক্ষমতার চেয়ে কমপক্ষে তিন গুণ রোগীর চাপ রয়েছে। এমনিতেই আমরা এই জনবল দিয়ে হাসপাতাল চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। হলিক্রিসেন্ট আমাদের পরিচালনা করতে দিলে দুই দিকই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।’

এই যখন অবস্থা, তখন চমেক হাসপাতাল আর ক্লিনিক মালিকদের ফাঁদে পা দিতে চাইছে না। চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন সাধারণ রোগীদের নিরাপদে রেখে করোনা রোগীদের জন্য আলাদা ব্লক তৈরি করে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে। শুরুতে অন্তত ১০০টি শয্যার পাশাপাশি কমপক্ষে ১০টি আইসিইউ শয্যা দিয়েই করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার শুরু করা যাবে। তবে প্রয়োজনে ৩০০ শয্যার ব্যবস্থা করাও কঠিন হবে না চমেকের পক্ষে।

চমেক হাসপাতালে যেহেতু সাধারণ রোগীদের সমাগম সবচেয়ে বেশি থাকে, সেক্ষেত্রে করোনা রোগীদেরও সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হলে সংক্রমণ বাড়বে কিনা— এ নিয়েও ভাবছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে এক্ষেত্রে তারা খুব বেশি সমস্যা দেখছেন না। কারণ একই ধাঁচের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও সপ্তাহখানেক আগে থেকে আলাদা ইউনিট তৈরি করে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তাতে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবায় কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না। ঢাকার মতো চমেক হাসপাতালেও সুরক্ষিত আলাদা ব্লকে হবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি নেই বললেই চলে— এমন অভিমত স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের। সবচেয়ে বড়ো কথা, করোনা রোগীর চাপ সামাল দিতে এর বিকল্পও নেই।