ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা আদায়, মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া, হত্যাচেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগে নয় পুলিশ সদস্যসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রামের এক ব্যক্তি। তবে আদালত সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়নি আদালত।

বুধবার চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মো. নোমানের আদালতে অভিযোগটি করেন চট্টগ্রামের জসিম উদ্দীন নামে এক ব্যবসায়ী।

আদালত টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী, অন্য দুই পুলিশ সদস্যসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগকারী জসিম উদ্দীন (৫৫) নগরীর পতেঙ্গা চরপাড়া মোড় এলাকার মৃত নেকবর আলী সিকদারের ছেলে। নগরীর সাগরিকা বিসিক এলাকায় তার সূচনা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে।

বাদির আইনজীবী জুয়েল দাশ জানান, মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে নালিশি অভিযোগ করে মামলা হিসেবে গ্রহণের আবেদন করেন বাদি। আদালত তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনারকে (উত্তর) নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে বাকি ছয়জনকে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। আদালত অভিযোগকারীর জবানবন্দীও গ্রহণ করেছেন। ২০১৪ সালের ঘটনায় এই মামলাটি করা হয়েছে। তখন লিয়াকত আলী সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে এসআই পদে কর্মরত ছিলেন।

মামলায় অভিযুক্ত সাতজন হলেন  গোয়েন্দা বিভাগের তৎকালীন এসআই লিয়াকত আলী, কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার সে সময়ের দুই এসআই নজরুল ও হান্নান, বাদির ব্যবসায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম সাহাবুদ্দীন, বিষ্ণুপদ পালিত, কাজল কান্তি বৈদ্য ও জিয়াউর রহমান।

তবে আদালত যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়নি সে ছয়জন হলেন সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের তৎকালীন এসআই সন্তোষ কুমার, এসআই কামরুল, সেসময়ে সদরঘাট থানার এসআই তালাত মাহমুদ, ওসি প্রণব চৌধুরী, দাউদকান্দি থানার মর্জিনা বেগম (বর্তমানে উখিয়া থানার ওসি) এবং সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের তৎকালীন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বাবুল আক্তার।

অভিযোগকারী জসিম উদ্দীন বলেন, আমরা প্রতিষ্ঠানে চুরি ও লুঠতরাজের ঘটনায় একটি মামলা করেছিলাম। সেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন লিয়াকত আলী। ওই মামলার তদন্তের জন্য আমার কাছ থেকে এসআই লিয়াকত ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিল। পরে ২০১৪ সালের ১৪ জুন আমাকে গোয়েন্দা বিভাগের অফিসে ডাকা হয় মামলার বিষয়ে কথা বলতে, এক পর্যায়ে তিনি মামলাটি আপস করতে বলে। আমি রাজি না হওয়ায় উল্টো পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। এরপর ওই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমাকে আটকে রেখে নির্যাতন করে। এরপর দাউদকান্দি থানার একটি ভুয়া মামলায় পতেঙ্গা থানায় আটকে রাখা হয়। পতেঙ্গার ওসি যাচাই-বাছাই করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু থানার সামনে থেকেই আবার আমাকে আটক করে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে লিয়াকত। টাকা না দিলে ক্রসফায়ার দিবে বলে। প্রাণরক্ষার ভয়ে দুই লাখ টাকা দিলেও সে ছাড়ে নাই।

লিয়াকত বর্তমানে টেকনাফে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খুনের মামলায় কারাগারে আছেন।