নিউজ ডেস্ক:

চীনের উহানে আবির্ভূত হওয়ার চার মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ লাখ ছাড়িয়ে গেলেও এদের মধ্যে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

শুক্রবার সকালে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্যে জ্ঞাত আক্রান্তদের মধ্যে সেরে ওঠা ব্যক্তির সংখ্যা ১০ লাখ ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানানো হয়।

উপসর্গ ছাড়াও অনেকেই শরীরে নতুন এ করোনাভাইরাস বহন করতে পারেন। যে কারণে শনাক্ত হয়নি এমন আক্রান্ত ব্যক্তি এবং সেরে ওঠা মানুষের সংখ্যাও ব্যাপক হবে বলে অনুমান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত প্রাণঘাতী এই ভাইরাস বিশ্বজুড়ে দুই লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, যার এক চতুর্থাংশের বেশিই যুক্তরাষ্ট্রের বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালের তথ্য মতে, কোভিড-১৯ এ মৃত্যু হার সাধারণ নিউমোনিয়ার চেয়ে বেশি কিন্তু দেড় যুগ আগে দেখা দেওয়া সার্সের তুলনায় অনেক কম।

এ প্রসঙ্গে তারা বিভিন্ন প্রমোদতরীতে নতুন করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর অনুপাতকে সামনে এনেছে। এ প্রমোদতরীগুলোতে প্রতি ১০০ জন আক্রান্তের বিপরীতে মৃত্যুর সংখ্যা ১ জনের কাছাকাছি বলে দেখা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হওয়ায় উপসর্গবিহীন অনেক আক্রান্ত ব্যক্তিই চোখের আড়ালে থেকে গেছেন। আর ঠিক এ কারণেই ইতালি ও স্পেনের মতো অনেক দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর অনুপাত তুলনামূলক বেশি দেখাচ্ছে।

করোনাভাইরাসে এ মুহুর্তে সবচেয়ে বিপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ পেরিয়ে ১১ লাখের দিকে ছুটছে। মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৬৩ হাজার।

দেশটির মধ্যে কেবল নিউ ইয়র্কেই ১৮ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সেরে ওঠা রোগীর সংখ্যাও দেড় লাখ পেরিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়।

তাদের দেয়া তথ্যে, আক্রান্তের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই আছে স্পেন, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির নাম। সংক্রমণের ‘সর্বোচ্চ পর্যায়’ পার হয়ে যাওয়ায় ইউরোপের বেশিরভাগ দেশই অবশ্য এখন বিধিনিষেধ শিথিলের পথে হাঁটছে।

ইউরোপর ও যুক্তরাষ্ট্রের পর আফ্রিকা প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশঙ্কা করছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে মানবদেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম ঘটনা শনাক্ত হয়। তার প্রায় এক মাস পর প্রথম মৃত্যুটি চীনে ঘটেছিল ১১ জানুয়ারি।

চীনের বাইরে প্রথম মৃত্যুটি ঘটেছিল প্রায় এক মাস পর ২ ফেব্রুয়ারি ফিলিপিন্সে। সেদিন মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩৬২।

মৃতের সংখ্যা ১ হাজারে পৌঁছেছিল ১০ ফেব্রুয়ারিতে। অর্থাৎ প্রথম মৃত্যুর পর মৃতের সংখ্যা ১ হাজারে পৌঁছতে লেগেছিল ঠিক এক মাস। এরপর মৃতের সংখ্যা দুই হাজারে যেতে সময় লাগে ৮ দিন।

তার এক মাস পর ১৯ মার্চ মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ায়। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে এসে ওই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় দুই লাখ।