করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ১ জন নারী সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের। দুইজন শহরের বাসিন্দা। তারা পেশায় ব্যবসায়ী।

সোমবার (১ জুন) ভোর ৫ টার দিকে জেলা সদর হাসপাতালের আইসিইউতে মো. এছারুল হক নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি শহরের পূর্ব পাহাড়তলি ইছুলুরঘোনার বাসিন্দা। তিনিসহ তার পরিবারে ৩ সদস্য করোনায় আক্রান্ত। তাদের মধ্যে একজন ঠিকাদার একরামুল হক। আরেক সদস্য ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

মো. এছারুল হকের করোনা লক্ষণ দেখা দিলে স্যাম্পল জমা দেন। রবিবার (৩১ মে) তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। রাতেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। সোমবার আনুমানিক ভোর ৫ টা নাগাদ তিনি  মৃত্যুবরণ করেন।

সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান কক্সবাজার পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের মধ্যম নুনিয়ারছড়ার তরুণ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ করিম (৩০)। ওই এলাকার শামসুল আলম প্রকাশ শামসু মাঝির ছেলে এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক।

করোনার উপসর্গ নিয়ে গত শনিবার (৩০ মে) তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই তার স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রবিবার সকালে হাসপাতালের আইসিউতে নেয়া হয়। সোমবার সকালে মারা যান।

প্রথম দিক থেকেই তার অবস্থা খুব সংকটাপন্ন ছিল। সদরে ভেন্টিলেটর না থাকায় তাকে চট্টগ্রাম রেফার করা হয়েছিল। স্বজনেরা নিজ দায়িত্বে এখানে রেখে দেয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সুপার ডা: মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

একই দিন সকাল ১১ টার দিকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যান মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারী। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ডেইলপাড়া এলাকার মোহাম্মদ কবিরের স্ত্রী। তিনদিন আগে তার করোনার লক্ষণ দেখা দিলে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে রবিবার (৩১ মে) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। আইসোলেশন ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছিল। সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মহিলাটি মারা গেছেন।

উপসর্গ নিয়ে মারা দুই জনের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী।