দুর্নীতির মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে জেল কোড অনুযায়ী তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের শুনানি শেষে এ দম্পতির ৪ কোটি ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৭৯ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। একই সময় দুদকের পক্ষ থেকে প্রদীপের সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

দুদক পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদ বলেন, আদালত পৃথক এক আদেশে বিকেলে আসামি প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির নামে থাকা ৬ তলা ভবন, পশ্চিম ষোলশহর এলাকার জমি, কক্সবাজারে একটি ফ্ল্যাট যার আর্থিক মূল্য ৩ কোটি ৬৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৭৫ টাকা, মাইক্রোবাস, একটি প্রাইভেটকার, বেসিক ব্যাংকের আসাদগঞ্জ শাখায় ডিপিএস ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ৬০৪ টাকা ক্রোক করার নির্দেশ দিয়েছেন। উভয়পক্ষের শুনানি হলেও আদেশ অপেক্ষমান ছিল। বিকেলে এ ক্রোক করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

দুদক পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি মামলায় প্রদীপ কুমার দাশের জামিন আবেদন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামির আবেদনের শুনানি শেষে জেল কোড অনুযায়ী তাকে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর মহানগর সিনিয়র স্পেশাল দায়রা জজ আদালত দুদকের মামলায় প্রদীপ কুমার দাশকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

গত ২৩ আগস্ট প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দীন। এ মামলায় ২৭ আগস্ট আদালতে প্রদীপকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জমা দেয় দুদক।

জানা যায়, প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকী কারণের বিরুদ্ধে দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। ২০১৮ সালে প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকী কারণের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে দুদক। ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল তাদের দুইজনকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয় দুদক। ১২ মে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এ তারা পৃথক সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন।