কক্সবাজারের উখিয়া থানার ওসি মর্জিনা আকতারসহ চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ মামলাটি করেন রিয়াদ সোলতানা নুরী। তিনি মহেশখালী উপজেলার কালারমারছরার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়ার বাসিন্দা নুরুচ্ছবির মেয়ে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কনস্টেবল মো. সুমন, ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম ও এএসআই মো. শামীম।

 এএসআই মো. শামীম ও ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম

এএসআই মো. শামীম ও ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম।

মামলাটি পিবিআইয়ের অ্যাডিশনাল এসপিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিপি অ্যাডভোকেট একরামুল হুদা।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কনস্টেবল মো. সুমনের (বর্তমানে রাঙামাটি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেম চলছিল রিয়াদ সোলতানা নুরীর। এ সুবাদে বিয়ের কাবিনের কথা বলে তাকে ৭ জুলাই দুপুরে খুনিয়াপালং চেকপোস্ট সংলগ্ন নিজ কক্ষে নিয়ে যান সুমন। কাজি আসার অপেক্ষার অজুহাতে কক্ষে বসিয়ে রাখেন, পরে ধর্ষণ করা হয়।

এরপর চেকপোস্টের পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে বসিয়ে রেখে জরুরি কাজের বাহানা দিয়ে পালিয়ে যান সুমন। পরে রাত ১১ টায় বিষয়টি কক্সবাজারের এসপিকে ফোনে জানান ভুক্তভোগী রিয়াদ সোলতানা নুরী।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, উখিয়া থানায় গেলে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেন ওসি মর্জিনা আকতার। এরপর অভিযুক্ত অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তাকে কক্ষে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন চালানো হয়।

এমনকি পায়ে রশি ও পরনের হিজাব দিয়ে চোখ বেঁধে একটি কক্ষে ঢুকিয়ে রাখারও অভিযোগ আনেন ভুক্তভোগী রিয়াদ সোলতানা নুরী। মামলার আরজির সঙ্গে নির্যাতনের কিছু ছবিও যোগ করেন তিনি।

পিপি অ্যাডভোকেট একরামুল হুদা বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজারের অ্যাডিশনাল এসপিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ওসি মর্জিনা আকতারের মুঠোফোনে কল করলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে ৭ জুলাইয়ের ঘটনাটি প্রকাশের পর গণমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, ভুক্তভোগী তরুণীকে উখিয়া থানায় নির্যাতন করার তথ্যটি সঠিক নয়।

মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর স্টেশনে থেকে দায়িত্বপালন করা যায় কি না বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে- এমন প্রশ্নে কক্সবাজারের অ্যাডিশনাল এসপি মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, মামলার কাগজপত্র হাতে পেলে আইনের বিধিমতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।