ইউএনও ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় ঘোরাঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জাহাঙ্গিরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

শুক্রবার সন্ধায় রংপুরের র‌্যাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব এ তথ্য জানায়।

জাহাঙ্গিরের নামে ওয়ারেন্ট আছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৩ এর কোম্পানী কমান্ডার রেজা আহমেদ ফেরদৌস বলেন, এ বিষয়ে পুলিশ দেখবে।

জাহাঙ্গিরকে কেন আটক করা হলো, সন্দেহটা কোথায়- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে র‌্যাবের এই শীর্ষ কর্তা বলেন, আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করি। সেকারণে তাকে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গিরের উল্লেখ করার মতো ভূমিকা ছিলো না। তাই কথাবার্তা বলে তাকে ছেড়ে দিয়েছি।

এছাড়া নিছক চুরির উদ্দেশ্যেই ঘোরাঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা উমর আলী শেখের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমান্ডার রেজা আহমেদ ফেরদৌস। তবে চুরির ঘটনায় এই হামলা কি-না তা খতিয়ে দেখতে সময় এবং আরো তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, ওয়াহিদা খানমের বাসায় হামলার ঘটনার দায় অভিযুক্ত আসাদুল হক স্বীকার করেছে। আসাদুলের দাবি অনুযায়ী, ইউএনওর ওপর হামলার মূল পরিকল্পনাকারি ছিলো নবীরুল ইসলাম। তার পরিকল্পনা অুনযায়ী হামলা চালানো হয়েছে। নবীরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা গেঞ্জিসহ উদ্ধার হওয়া আলামত সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, আমরা ছায়া তদন্ত করছি। এ ঘটনার উপসংহারে পৌঁছানোর জন্য আরো তদন্ত প্রয়োজন। তদন্ত ছাড়া বিস্তারিত বলা যাবে না। তদন্তের স্বার্থে আমরা প্রয়োজনে আরো অনেককে নিয়ে আসেবো। আরো সময় দিতে হবে, আরো তদন্ত করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি ভবনে ঢুকে হামলা চালায় দুষ্কৃতিকারীরা। ঘটনার পর পর তদন্তে নামে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ দল। বৃহস্পতিবার দিনাজপুর ডিবি গোয়েন্দা পুলিশ ইউএনও’র বাসভবনের নৈশ প্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করে এবং গোপন খবরের ভিত্তিতে বাকি পাঁচজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনার তদন্তে এর মধ্যে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে এরইমধ্যে রংপুর বিভাগের ৫৮টি উপজেলায় ইউএনওদের নিরাপত্তায় ১০ জন করে অস্ত্রধারী আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এই ঘটনার পেছনে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।