চূড়ান্ত লক্ষ্য রাখাইনে ফেরানো (প্রত্যাবাসন)। এ নিয়েই ঢাকার সব তৎপরতা। তবে আপাতত ১ লাখ রোহিঙ্গা ভাষানচরে যাবে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, মিয়ানমারে নতুন সরকার গঠনের পরই প্রত্যাবাসন বিষয়ে ফের আলোচনা শুরু হবে। রোহিঙ্গাদের ফেরানোর প্রক্রিয়া যেকোনো সময় শুরু করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এরই মধ্যে চীনসহ প্রত্যাবাসন সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে নতুন করে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। করোনা মহামারির কারণে গত ২০শে জানুয়ারির পর (গত ১০ মাস) এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা বন্ধ ছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচনের ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়। ৮ই নভেম্বর নির্বাচন শেষ হয়েছে। অং সান সুচির জোট নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হয়েছে। এখন তারা সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে রয়েছে।

দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ ওই নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যখন সব দেশ মিয়ানমারের নতুন সরকারকে  স্বীকৃতি দেবে তখন বাংলাদেশও তা করবে। সরকার গঠনের পর প্রত্যাবাসন নিয়ে ঢাকা নতুন করে আলোচনা শুরু করবে। রাজধানীর রমনাস্থ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আজ ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন’র খসড়ার ওপর আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গা সংকটকে ‘বড় সমস্যা’ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বহুপক্ষীয় সব ফ্রন্টেই যোগাযোগ রাখছে। প্রত্যাবাসন বিষয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার ত্রিদেশীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠক বেইজিংয়ে অনুষ্ঠানের প্রস্তাব রয়েছে। এমন বৈঠক আগেও তিন দফা হয়েছে। প্রস্তাবিত বৈঠকটির দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেই বৈঠকে অংশগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ কেবল চীনের দিকে চেয়ে নেই। জাপান, বৃটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বাংলাদেশের অনেক বন্ধু সংকটটির নিরসনে মিয়নমারের ওপর নতুন করে চাপ বাড়িয়েছে। বৈশ্বিক চাপে মিয়ানমার বারবার প্রত্যাবাসনে রাজি থাকলেও দুর্ভাগ্যজনক তারা এখনো তাদের বাস্তুচ্যুত একজন নাগরিককেও ফিরিয়ে নেয়নি। অপর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রত্যাবাসন প্রলম্বিত হওয়া, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের গাদাগাদি করে অবস্থান বিশেষত সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাষানচরে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যদিও কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশেষতঃ এনজিও ওই স্থানান্তরের বিরোধীতা করছে। এ নিয়ে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্থানান্তর নভেম্বর বা ডিসেম্বরে হবেÑ এমনটি সরকার বলেনি। গণমাধ্যমে এ নিয়ে নানা কথাই আসছে, যা সত্য নয়। এখনো স্থানান্তরের কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দ্রুতই তারিখ ঠিক হবে এবং আপনারা জানবেন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় বিদেশ ফেরত যাত্রীদের কোভিড-১৯ সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবার সরকার কঠোরতার সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করবে। এর আগে সিলেট বিভাগের সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন সিলেট মহানগরের পরিধি বাড়ানোর কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অনেকটা অগ্রসর হয়েছে। নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠায় একটি আইনের খসড়া তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা ও মতামত গ্রহণ চলছে। এটি তৈরি হলে পরিকল্পিতভাবে সিলেটের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হবে বলে আশা করেন তিনি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম নাহিদ, সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট চেম্বার সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব, সিলেট উইমেন চেম্বারের সভাপতি স্বর্ণলতা রায় প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।